স্পোর্টস রিপোর্টার
ধানমন্ডিতে আবাহনী এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের দূরত্ব খুব বেশি না। চাইলে হেঁটেও যাওয়া যায়। এতটুকু দূরত্বের পথের দুই দল আজ ফুটবল মাঠে বাঘ-সিংহের লড়াইয়ে নামবে। দুই পক্ষ প্রতিবেশী হলেও তরা আজ ফেডারেশন কাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে শত্রু দমনের লড়াইয়ে নামবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল ৫টায় আবাহনী ও শেখ জামালের সেমিফাইনাল শুরু হবে।
ফুটবল মাঠে আবাহনী এবং শেখ জামালের লড়াইটা বরাবরই শক্তিশালী লড়াইয়ে পরিণত হয়। কাউকে ছাড় দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ কেউ কাউকে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আবাহনীর কোচ জাকারিয়া বাবু এবং শেখ জামালের কোচ যোসেফ আফুসি।
নাইজেরিয়ান এই কোচ যোসেফ আফুসি অভিজ্ঞ; কিন্তু শেখ জামালের যেসব ফুটবল আছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন আগের মতো জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় নেই। তবে কোচ আফুসি দলটাকে ভালো পরিকল্পনায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশিরা আছেন দলের নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি হয়ে। শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ড্র করেছে। মোহামেডানকে হারিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে সাইফ স্পোর্টিংকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে শেখ জামাল ধানমিন্ড ক্লাব। বছর দুই আগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রাব ফেডারেশন কাপ ফুটবল ট্রফি জয়ের হ্যাটট্রিক করার পথে যাচ্ছিল। সেমিফাইনালে হেরে স্বপ্ন ভেঙে যায়। সেই দুঃখ আজও ভুলতে পারেনি শেখ জামাল। একটু ভুলের জন্য সব শ্রম পণ্ড হয়ে যায়। আবার সেমিফাইনালে উঠে শেখ জামাল ফাইনালের স্বপ্ন দেখছে। যদি স্বপ্ন পূরণ করতে হয় তাহলে আবাহনীকে হারাতে হবে আজ।
আবাহনীর সামনে টানা তিন ফাইনাল খেলার হাতছানি। ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক জয়ের সম্ভাবনা। ফাইনালে উঠতে হলে শেখ জামালকে ঘায়েল করতে হবে। আবাহনী টানা দুইটি ট্রফি জয়ের পর হ্যাটট্রিক জয়ের পথে। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ জামাল।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আবাহনীর সামনে শুধু হ্যাটট্রিক জয়ের হাতছানি নয়। তাদের সামনে রয়েছে এই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ের সুযোগ। ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে মোহামেডানের সঙ্গে সমান তালে রয়েছে। মোহামেডান এই টুর্নামেন্ট হতে ছিটকে গেলেও আবাহনী টিকে রয়েছে স্বমহিমায়। আরেকটি ট্রফি জয়ের সম্ভাবনার পথ খুলে রেখেছে। কোচ জাকারিয়া বাবুকে পরিকল্পনার ছক কতটুকু কাজে লাগে তা প্রমাণ হবে মাঠে। শেখ জামাল জানিয়ে দিয়েছে তারা আবাহনীর চেয়েও শক্তিশালী দলের মোকাবেলা করে এসেছে এই টুর্নামেন্টে। আবাহনীর মতো শক্তিশালী দলকেও তারা হারিয়ে দিতে চায়। মনোবল খুব চাঙ্গা। অন্য প্রান্তে মুখের কথায় বিশ্বাস করে না আবাহনী। তারাও মাঠে প্রমাণ করতে প্রস্তুত। মাঠেই দেখাতে চায় কার শক্তি কতটুকু।