ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সিরিজ হার

ভেন্যু বদলেছে। কয়েকটা দিনও অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ দলের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। বলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। নেপিয়ার থেকে ক্রাইস্টচার্চ একই চিত্রনাট্যে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স।

দুই ম্যাচে অভিন্ন ঘটনা রয়েছে অনেক। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ। হারের ব্যবধানও একই, আট উইকেটে হেরেছে সফরকারীরা। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে ত্রাতার ভূমিকায় থাকা মোহাম্মদ মিঠুন হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। একই ভাবে টানা দুই সেঞ্চুরি করেছেন মার্টিন গাপটিল। উভয় ম্যাচেই কাকতালীয়ভাবে তামিম ইকবাল ৫ রান, লিটন কুমার দাস ১ রান করে আউট হয়েছেন।

এমন সব কাকতালের ভিড়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজটা হেরে গেছে বাংলাদেশ এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। হ্যাগলি ওভালে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে আট উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ২২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৩৬.১ ওভারে দুই উইকেটে ২২৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। সেঞ্চুরিয়ান গাপটিল ম্যাচ সেরা হন।

গতকাল ম্যাচের সকালে হালকা বৃষ্টি হয়েছিল ক্রাইস্টচার্চে। ম্যাচের শুরুতেও মিনিট দশেকের বিরতি পড়েছিল বৃষ্টির কারণে। এমন কন্ডিশনে টসটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু টস ভাগ্য বাংলাদেশের হয়ে কথা বলেনি। টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচে বাংলাদেশের টপঅর্ডারই ম্যাচের লাগাম তুলে দিয়েছে স্বাগতিকদের হাতে। নেপিয়ারে প্রথম চার ব্যাটসম্যান মিলে ৪১ রান করেছেন। ক্রাইস্টচার্চে তাদের সম্মিলিত অবদান ৫১ রান। মূলত কিউই পেসারদের গতির ঝড় সামাল দিতে পারছেন না তামিম-মুশফিকরা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পেছনে পাঁচ পেসার লেলিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। নেপিয়ারে সাত, ক্রাইস্টচার্চে আট উইকেট তুলে নিয়েছেন স্বাগতিক পেসাররা। বোল্ট, হেনরিদের পর বোলিংয়ে আসা ফার্গুসন, নিশামরাও দুরন্ত গতির বোলাররা। ক্রমাগত ১৪০ কিমি. গতিতে বোলিং করেন তারা। যার জবাবটা দিতে পারছেন না তামিম-সৌম্যরা।

গতকাল যেমন ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ডাউন দ্য উইকেট এসে বোল্টকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস। সপ্তম ওভারে তামিম এলবির ফাঁদে পড়েন। ১৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর সৌম্য-মুশফিক ৩২ রানের জুটি গড়েন। দুজনের সম্ভাবনাময় ইনিংস আলোর মুখ দেখেনি। সৌম্য ২২, একবার জীবন পাওয়ার পরও আগের ম্যাচের মতোই মুশফিক বোল্ড হয়েছেন ২৪ রান করে। দলীয় ৯৩ রানে মাহমুদউল্লাহ (৭) আউট হলে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ষষ্ঠ উইকেটে মিঠুন-সাব্বিরের ৭৫ রানের জুটি বিপদ কাটানোর পাশাপাশি ম্যাচের আয়ু দীর্ঘায়িত করেছে, সম্মান বাঁচিয়েছে বাংলাদেশের। ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি করেন মিঠুন। ৫৭ রান করে বোল্ড হন তিনি। সাব্বির ফিরেছেন ৪৩ রান করে। শেষ দিকে মিরাজের ১৬, সাইফউদ্দিনের ১০, মাশরাফির ১৩ রানে দুইশ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন তিনটি, অ্যাস্টল-নিশাম দুটি করে, বোল্ট-গ্র্যান্ডহোম- হেনরি একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের পুঁজি টপকে যেতে বেগ পেতে হয়নি নিউজিল্যান্ডকে। ৪৫ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙলেও গাপটিলের ১৬তম সেঞ্চুরিতে লড়াইটা একপেশে রূপ নেয়। ৮৮ বলে ১১৮ রান (১৪ চার, ৪ ছয়) করেন গাপটিল। বাকি পথটা নির্বিঘ্নেই পাড়ি দিয়েছেন উইলিয়ামস ও রস টেইলর। নিকোলস ১৪, উইলিয়ামসন অপরাজিত ৬৫, টেইলর অপরাজিত ২১ রান করেন। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ দুটি উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড

n টস: নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ ইনিংস:                          রান   বল   চার ছয়

তামিম ইকবাল এলবিডব্লিউ ব হেনরি   ৫      ২৮   ০     ০

লিটন দাস ক ফার্গুসন ব বোল্ট           ১      ৪     ০     ০

সৌম্য ক টেইলর ব গ্র্যান্ডহোম             ২২    ২৩   ৩     ০

মুশফিকুর রহিম বোল্ড ব ফার্গুসন        ২৪    ৩৬   ২     ০

মোহাম্মদ মিঠুন বোল্ড ব অ্যাস্টল          ৫৭    ৬৯   ৭     ১    

মাহমুদউল্লাহ ক লাথাম ব অ্যাস্টল         ৭      ৮     ১     ০

সাব্বির ক নিশাম ব ফার্গুসন              ৪৩    ৬৫   ৭     ০

মিরাজ ক নিকোলস ব নিশাম             ১৬    ২০   ১     ০

সাইফউদ্দিন বোল্ড ব ফার্গুসন             ১০    ১৫   ০     ০

মাশরাফি ক বোল্ট ব নিশাম              ১৩    ১৮   ০     ১

মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত            ৫      ১২   ১     ০

অতিরিক্ত (লে বা-৬, ও-১৭,)             ২৩

মোট (অলআউট, ৪৯.৪ ওভার) ২২৬

n উইকেট পতন

১/৫ (লিটন), ২/১৬ (তামিম), ৩/৪৮ (সৌম্য), ৪/৮১ (মুশফিকুর), ৫/৯৩ (মাহমুদউল্লাহ), ৬/১৬৮ (মিঠুন), ৭/১৯০ (মিরাজ), ৮/২০৬ (সাব্বির), ৯/২১১ (সাইফউদ্দিন), ১০/২২৬ (মাশরাফি)।

n নিউজিল্যান্ড বোলিং :

হেনরি : ১০-২-৩০-১ (ও-১), বোল্ট : ১০-১-৪৯-১, গ্র্যান্ডহোম : ৪-০-২৫-১ (ও-৮), ফার্গুসন : ১০-০-৪৩-৩ (ও-২), অ্যাস্টল : ১০-০-৫২-২, নিশাম : ৫.৪-০-২১-২ (ও-২)।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস :                 রান   বল   চার  ছয়

গাপটিল ক লিটন ব মুস্তাফিজ             ১১৮  ৮৮   ১৪   ৪

হেনরি ক লিটন ব মুস্তাফিজ                ১৪    ২৩   ২     ০

কেন উইলিয়ামসন অপরাজিত            ৬৫    ৮৬   ৩     ০

রস টেইলর অপরাজিত                     ২১    ২০   ৩     ০

অতিরিক্ত (বা-১, ও-১০)                  ১১

মোট (৩৬.১ ওভার, ২ উইকেট)          ২২৯

n উইকেট পতন

১/৪৫ (নিকোলস), ২/১৮৮ (গাপটিল)।

n বাংলাদেশ বোলিং

মাশরাফি: ৬-০-৩৭-০ (ও-১), সাইফউদ্দিন: ৬-০-৪৪-০ (ও-৩), মিরাজ: ৭.১-০-৪২-০, মুস্তাফিজুর: ৯-০-৪২-২ (ও-২), সাব্বির: ৪-০-২৮-০, সৌম্য:১-০-১০-০, মাহমুদউল্লাহ: ৩-০-২৫-০।

n ফলাফল    :  নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

n ম্যাচ সেরা :  মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড)।