ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ধারণা, কাশ্মিরি উগ্রপন্থি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ওপর যথেষ্ট ‘কৃতজ্ঞতা’ রয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতায় থাকা তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং এর নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। আর তাই ইমরান আমলে জইশের আরও বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।
পিটিআই-জইশ সম্পর্ক এতটাই মধুর যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি অর্থায়নে নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স) নজরদারি উপেক্ষা করে জইশকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সরকার। পুলওয়ামা-কাণ্ড তারই ইঙ্গিত মনে করছে ভারত। ইমরানের দলের পক্ষে শুক্রবার এক বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগের কথা বলে ভারত সরকার আবহাওয়া গরম করছে।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই বিবৃতিতেও জইশকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জইশের মতো জঙ্গি সংগঠনকে পুঁজি জোগানো বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছিল এফএটিএফ, যার সময়সীমা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর। সেটি না হলে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়তে হবে পাকিস্তানকে। এ ব্যাপারে ২৬ দফা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু তারপরেও জইশের গাঁয়ে আঁচ লাগে এমন একটি পদক্ষেপও করতে দেখা যায়নি ইমরান সরকারকে। বরং সমপ্রতি দেখা গিয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রীকে ১২ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে জইশের তহবিলে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বলা রয়েছে জইশ পাকিস্তানের ৩৩টি বেআইনি জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে একটি। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। ২০১৬ সালে পাঠানকোট হামলার পরে একবারই মাত্র তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শরিফ জইশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়েছিলেন। স্বীকার করেছিলেন, ওই হামলার পিছনে জইশ তথা মাসুদ আজহারের হাত রয়েছে।
নির্বাচনের আগে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ইসলাম এবং পাকিস্তানের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হিসাবে তুলে ধরে লাগাতার প্রচার করে গিয়েছে জইশ। পাশাপাশি ইমরানের জনসভায় ভিড় বাড়ানো থেকে শুরু করে সব রকম সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। ক্ষমতায় এসে ইমরান তার প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন। পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরে ১৫ একর জমির উপর একটি প্রাসাদোপম ভবন বানাচ্ছে জইশ। এখন তাদের যে সদর দপ্তর রয়েছে, প্রস্তাবিত ভবনটি তার থেকে পাঁচ গুণ বড়। দক্ষিণ পাঞ্জাবের গ্রামাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার কিশোর যুবাকে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অবকাঠামো থাকছে সেই ভবনে।