শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নাইজেরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল শনিবার নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ন্যাশনাল ইলেকশন কমিশন (আইএসইসি) নির্বাচন পেছানোর জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ার কারণ দেখিয়েছে। এর আগে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণে বড় ধরনের সমস্যার কথা বলা হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন অল প্রোগ্রেসিভ কংগ্রেস (এপিসি) ও প্রধান বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি) এই বিলম্বের ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে দাবি করেছে। প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির দল এপিসি’র নির্বাচনী প্রচারণাকারী দলের মুখপাত্র ফেস্টুস কেয়ামো বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর খবরটি ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ এবং সময়মত প্রস্তুতি সম্পন্ন না করার জন্য আইএনইসি দায়ী।
পিডিপি’র প্রার্থী আতিকু আবুবাকার নির্বাচন পেছানোর জন্য বুহারি সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘২৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার আরো বেশি সংখ্যক নাইজেরিয়ান ভোটের মাধ্যমে তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করবেন।’ নির্বাচন পেছানোয় সরকারের হাত রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা নির্বাচনে জয়ী হব। আপনারা নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু এর ফলাফল পিছিয়ে দিতে পারবেন না।’ তিনি তার সমর্থকদের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কাদুনার দুটি এলাকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ২২ শিশু ও ১২ নারী রয়েছেন। কাদুনা প্রদেশের কুজুরু এলাকার আটটি গ্রামে এই হামলা হয়। প্রদেশটির গভর্নর নাসির আই রুফাই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি এসব এলাকার মানুষের পাল্টা হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কারা এই হামলা করেছে অথবা কী কারণে এই হামলা করা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জানতে পারেনি।
কাদুনা প্রদেশের সরকারি মুখপাত্র স্যামুলে আরুয়ান বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো শুক্রবার প্রদেশের মারো গিদা ও কাজুরু এলাকায় গুলিতে নিহত ৬৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। হামলার পর স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, চারজন আহত ব্যক্তিকে নিরাপত্তাকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমি চাই নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরবে। তা নাহলে এসব বন্ধ করতে পারবে না। নির্বাচনের সময় এমন হামলা মানুষের মধ্যে উদ্বেগের তৈরি করেছে।’