আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নাম এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা ব্যবহার করে তিন শতাধিক ভুঁইফোড় সংগঠন এখন সক্রিয়। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কোনো নেতার ছবি দিয়ে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ছাপানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রাজধানীসহ সারাদেশে অলি-গলিতে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতাদের বড় বড় ছবিতে ছেয়ে গেছে। কার্যত এই সংগঠনগুলোর বেশির ভাগের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে তাদের হাঁক-ডাক আছে। দলের বদনাম ছড়াচ্ছে।
আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তাদের কোনো দলীয় বা সাংগঠনিক স্বীকৃতি না দিলেও দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকেই এসব সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও তাদের বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় ও সরকারি বৈধ কোনো অনুমোদন না থাকলেও এসব সংগঠনের নেতাদের দৌরাত্ম্য এতই বেড়ে চলেছে যে, খোদ দলীয় অনেক নেতাকে পর্যন্ত তারা তোয়াক্কা করছেন না। বিষয়টি আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে। জানা গেছে, টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করা ভূইফোড় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে বেশ কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী নিজেদের আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে প্রচার করছে। সংগঠনগুলো বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে। গোয়েন্দা সংস্থা এরকম তিন শতাধিক ভুয়া সংগঠনের তালিকা শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ (২) ধারা অনুযায়ী সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ এবং যুব মহিলা লীগ। আর নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ। এরা আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন। অর্থাত্ এই নয়টি সংগঠনের বাইরে আওয়ামী লীগের সহযোগী কোনো সংগঠন নেই। স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদসহ কিছু পেশাজীবী সংগঠন রয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন না হলেও দলের স্বীকৃত সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।
আওয়ামী ওলামা লীগ নামে চারটি সংগঠন আছে। ওলামা লীগের একাংশ সম্প্রতি বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, আওয়ামী ওলামা লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোন সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন নয়। তখন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে গড়ে ওঠা এরকম ভুঁইফোড় সংগঠনগুলো খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরা মূলত লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড, ব্যানার-ফেস্টুন সর্বস্ব। সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদের নেতাও কিছু দিন পর পর বদল হয়।