প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার প্রাথমিক তদন্তের জন্য একটি টিম পাঠাতে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। শুক্রবার জার্মানির মিউনিখে আইসিসি’র প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদার সঙ্গে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী মার্চের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসতে চাওয়া আইসিসি টিমকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর নৃশংসতার বিচারের বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার প্রসঙ্গে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আইসিসি ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু আমলে নিয়েছে এবং দায়ীদের বিচারের জন্য একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রসঙ্গে মামলা দাঁড় করানোর লক্ষ্যে আইসিসি টিম প্রাথমিক তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সফর করবে। প্রধানমন্ত্রী আইসিসি প্রধান কৌঁসুলিকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অবহিত করেন। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পর্কে তাকে জানান। গামবিয়ার নাগরিক ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ফাতু বেনসুদা বলেন, জার্মানস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছেন। যে কারণে তিনি বিষয়টি জানেন। ড. বেনসুদা প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি পরিদর্শন করে ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচারের বিষয় নিয়ে কথা বলতে আহ্বান জানান। বাংলাদেশ আইসিসিতে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আইসিসিতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালে যোগদান করে জোরালো ভূমিকা রাখছে। অপরদিকে সম্মেলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র নিবারণ প্রচারণা কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক নোবেল পদকপ্রাপ্ত বেট্রিক ফিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। পরমাণু অস্ত্র বন্ধ করার উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তিনি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দক্ষিণ এশিয়াকে পারমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ৩৬শ’ মেগাওয়াট
এলএনজি বিদ্যুত্ প্লান্টের নির্মাণ চুক্তি
পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রে ৩৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুত্ বিভাগ ও জার্মান সংস্থা সিমেন্স কোম্পানীর মধ্যে একটি যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেল শেরাটনে সিমেন্সের প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাত্ করার পর এই চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী খোরশেদ আলম ও সিমেন্সের প্রধান নির্বাহী এবং গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট জো কায়সার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম, বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমেদ কাইকাস ও জার্মানীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমদ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে জার্মান কোম্পানী ভেরিডোসের প্রধান নির্বাহী হান্স ওলফগাং কুনজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।