প্রবৃদ্ধি অংশগ্রহণমূলক না হলে তা টেকসই হবে না

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা সব খাতের জন্য সুষম হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, প্রবৃদ্ধিতে বৈষম্য থাকলে কিংবা তা অংশগ্রহণমূলক না হলে ওই প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না। এশিয়ার অনেক দেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বৈষম্যের ‘ফাঁদে’ পড়ে রয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিবিদদের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত দুই দিনের ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে সভাপতিত্ব করেন সানেমের চেয়ারম্যান ড. বজলুল হক। গতকাল প্রথম দিন পাঁচটি কর্ম-অধিবেশনে বক্তারা অর্থনীতির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

‘গভর্নিং নিউ চ্যালেঞ্জেস : ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট, ট্রেড এন্ড ফাইন্যান্স— এ সাউথ এশিয়ান পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক একটি কর্ম-অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান দেশের প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বেকারত্বের ইস্যুটি তোলেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনের সময়ে বৈষম্য থাকলে তা টেকসই হয় না। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কোন কোন দেশ এ প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় ঢুকলেও তারা বৈষম্যের ফাঁদে পড়ে আছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ ও সহযোগিতার উপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) মত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরো কার্যকর হওয়ার তাগিদ দেন।

অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধি একটি বড় ইস্যু। দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে আগামীতে চীন বড় ভূমিকায়  আসতে পারে। বিশেষত অবকাঠামোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে। অবশ্য বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূর করা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বৈষম্য কমাতে চটজলদি কোন দাওয়াই নেই বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে দেশের গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের জীবনমানে বিশেষ কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মৌলিক চাহিদায় এত দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মালিক-শ্রমিকের জীবনমানে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। অবশ্য অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র অপরিহার্য বলে মত দেন তিনি।

ইউএনএস্কাপ-এসএসডব্লিউএ’র নয়াদিল্লি শাখার পরিচালক ড. নগেশ কুমারের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শ্রীলঙ্কার লাক্সম্যান কাদিরগামার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. গনেশন উয়িগনারাজা, ভারতের আরআইএসে’র অধ্যাপক প্রবীর দে, নেপালের প্রতিনিধি পশরাজ পান্ডে প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগিতর জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও সমাজে বৈষম্য বিদ্যমান। এর মূল কারণ হচ্ছে সমাজের ধনী শ্রেণি বহু আগে থেকেই সম্পদ কুক্ষিগত করে আসছে। তবে দেশের প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানবিহীন নয় বলে মনে করেন তিনি।