কিশোরগঞ্জে দুই কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, অতঃপর হত্যা করে লাশ গুমের দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ছয়জনকে ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার বেলা আড়াইটায় ১নং নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক কিরণ চন্দ্র হালদার এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হাটবারেঙ্গা গ্রামের মনিরুজ্জামান ওরফে হলুদ ওরফে সুজন ও ঝালকাটির নলছিটি উপজেলার কাওখিরা-আমিরাবাদ গ্রামের শামীম হাওলাদার ওরফে জহির।
হত্যার দায়ে শামীমকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ১ লাখ টাকা এবং সুজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। তাছাড়া অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত উভয় আসামি পলাতক।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলো, মোস্তফা মীর ওরফে রানা, জয়নাল আবেদীন, দিলদার হোসেন, বাবুল মিয়া (পলাতক), কবির হোসেন ওরফে শান্ত (পলাতক) ও আবুল হোসেন ওরফে আবুল (পলাতক)। তন্মধ্যে প্রথমোক্ত তিনজন জামিনে থাকার পর রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিল।
মামলার বিবরণে বলা হয়, কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসির ছাত্রী দুই বান্ধবী আফরোজা আক্তার সুমি ও আফরোজা আক্তার উর্মির সঙ্গে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে কর্মরত আসামি মনিরুজ্জামান ও শামীম মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই সকাল নয়টার দিকে আসামিদ্বয় মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সুমি ও উর্মিকে জেলা শহরের রথখলা এলাকা থেকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে শামীম হাওলাদার ও সুমি কাওরান বাজারের হোটেল ওয়েস্টার্ন গার্ডেন ইন্টারন্যাশনালের ৩০৭ নং কক্ষে এবং মনিরুজ্জামান ও উর্মি ৩০৮ নং কক্ষে উঠে। সেখানে আসামিদ্বয় তাদের ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে বাইরে থেকে কক্ষ দুটিতে তালা লাগিয়ে খাবার আনার কথা বলে তারা হোটেল থেকে বের হয়ে যায়। অনেকক্ষণ হয়ে যাবার পর তারা ফিরে আসছে না দেখে হোটেল কর্ত্তৃপক্ষ তালা খুলে ভেতরে লাশ দেখতে পেয়ে লাশ দুটি গুমের সিদ্ধান্ত নেয়। হোটেলের কর্মচারীদের সহায়তায় দুটি বড় টুকরিতে লাশ দুটি ভরে ওপরে শাকসব্জি দিয়ে ঢেকে একটি লাশ কাওরান বাজার সংলগ্ন একটি ঝিলে এবং অপর লাশটি তেজগাঁও রেললাইনের পাশে একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।
পুলিশ পরে অজ্ঞাতনামা হিসেবে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
আরও পড়ুনঃ বিজিবি কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাবিতে মানববন্ধন
এদিকে নিখোঁজ আফরোজা আক্তার সুমির পিতা আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন এবং তদন্তশেষে মোট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
ইত্তেফাক/নূহু