ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিধ্বস্ত হওয়ার দুঃস্বপ্নকে সঙ্গী করেই এবার ডানেডিনে চলে এসেছে বাংলাদেশ দল। আগামী বুধবার ভোরে এখানকার ইউনিভার্সিটি ওভালে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
গতকাল নিউজিল্যান্ড সময় দুপুরে ডানেডিনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চ থেকে ঘণ্টাখানেকের এক ফ্লাইটে উড়ে এসেছে বাংলাদেশ। সেই ক্লান্তির মধ্যেও প্রথম দুই ওয়ানডেতে অসহায় ভাবে হারের বেদনাটাই যেন তীব্র হয়ে উঠলো।
দেশে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন অবশ্য শেষ ম্যাচকে ঘিরে আশার বাণীই শোনালেন। বললেন, ‘দেখা যাক শেষ ওয়ানডেতে কি হয়। যেহেতু সিরিজ আমরা হেরে গেছি, আমাদের কিছু হারানোর নেই। আমরা আমাদের যতটুকু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি সেটা সবচেয়ে বড় জিনিস।’
প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘একটু আনলাকি সেকেন্ড ম্যাচটায়। আমরা টস হারলাম। টস জিতলে হয়তো আমরা বোলিং করতাম সেদিন। কন্ডিশন একটু ওয়েট ছিল। ওভার কাস্ট ছিল। হয়তো বোলাররা একটু হলেও সুবিধা পেত। আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনে সেকেন্ড হাফে উইকেট সবসময় ভালো হয়ে যায়। আর আমরা সকালবেলা একটু তো ময়েসচার থাকেই। ওই সুবিধাটা নিউজিল্যান্ড বোলাররা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমাদের টপ অর্ডার দুইটা ম্যাচেই ভালো করেনি, এটা হতেই পারে।’ মিডল অর্ডারে টুকটাক রান আসাকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন। জানালেন, সাকিব ফিরলে এই দলের চিত্রটা আরো খানিকটা পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মিডেল অর্ডারে যেভাবে কামব্যাক করেছি সেটাও পজেটিভ নোটে নিতে পারি। তবে ড্যাফিনিটলি কামব্যাক করাটা জরুরি। আমার মনে হয় সাকিব না থাকাতে যা হয়, দলের ব্যাল্যান্স করতে একটু কঠিন হয়। আমাদের তো ওই মানের অলরাউন্ডার সত্যি কথা কমই। তারপরও আমি যদি একটা কম ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলবেন সেটাও একটা ঝুঁকি হয়। তারপরও আমি একটা বোলারের শর্ট দেখি। দেখা যাক ম্যানেজমেন্ট যেটা ভালো করে সেটাই করবে। ’
বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের খুব বেশি সমালোচনা তিনি করলেন না। তবে, মনে করছেন পেসার রুবেল হোসেন থাকলে বোলিংটা আরো ভালো হতে পারতো। বললেন, ‘আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বেশি ভালো খেলছে। ওদের যারা বল করছে তাদের সবাই ১৪০ এ বল করছে। আমাদের কিন্তু ওই জোরে বোলারটা নাই। আমরা রুবেলকে মিস করছি। রুবেলের পেসটা মিস করছি। হয়তো আমাদের যদি একটা জোরের বোলার থাকত, সেকেন্ড হাফে উইকেট অনেক সহজ হয়ে যায় ব্যাটিংয়ের জন্য, ফ্ল্যাট হয়ে যায়। আমার মনে হয় লেন্থটা নিয়ে একটু কাজ করলে ভালো।’
সব মিলিয়ে এখন অবধি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে হতাশ নন সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘ আমি একদম হতাশ না। নিউজিল্যান্ড কন্ডিশন সবসময় কঠিন যে কোনো উপমহাদেশের দলের জন্য। আমি মনে করি ছেলেরা ভালো ট্র্যাকেই আছে। আমি মনে করি সাকিব ফিরে আসলে টিমের ব্যালান্সটা ঠিক হয়ে যাবে।’