স্পোর্টস রিপোর্টার
নবম উইকেটের যখন পতন ঘটে জয় থেকে তখনও ৭৮ রান দূরে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কা। এই অবস্থা থেকে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার জয়টা নিশ্চিতই ছিল। তবে, সেখানে পর্বত সমান সাহস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান কুশল পেরেরা। সঙ্গী হলেন বিশ্ব ফার্নান্দো। ৭৮ রানের শেষ উইকেট জুটিতে ফার্নান্দোর অবদান ছিল মোটে ছয় রান। অপর প্রান্ত আগলে রেখে যখন ব্যাটে বলের দারুণ সংযোগ ঘটিয়ে সেকেন্ড স্লিপ দিয়ে একটা চার মেরে লঙ্কানদের জয় নিশ্চিত করলেন, তখনও চোখে দেখা এই অবিশ্বাস্য লড়াইকেও যেন এক জাদুকরী বিভ্রম বলে মনে হচ্ছিল।
আসলে বিষয়টা বিভ্রম না হলেও যথেষ্ট জাদুকরী। পেরেরার ১৫৩ রানের ইনিংসটাকে তাই ক্রিকেট বিশ্বই ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংসের স্বীকৃতি দিচ্ছে। সাবেক লঙ্কান গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনে টুইটারে লিখেছেন, ‘হোয়াট আ বিউটি! চাপের মুখে টেস্টের ইতিহাসে এটা অন্যতম সেরা একটা ইনিংস। দারুণ বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে কুশল জেনিথ পেরেরা। তোমার জন্য লঙ্কান ক্রিকেট গর্বিত।’
কুশলের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচটাও লেখা হয়ে গেল ইতিহাসের পাতায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে শ্রীলঙ্কা জিতে যায় এক উইকেটের ব্যবধানে। ভারতীয় ক্রিকেটার রবীচন্দ্রন অশ্বিন টুইটারে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার দেখা অন্যতম সেরা একটি টেস্ট ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কার ম্যাচটা ছিল দৃষ্টিসুখকর। দু’দলকে দারুণ একটা ম্যাচ উপভোগের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
এর মধ্য দিয়ে আট বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট জিতল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার টার্গেট ছিল ৩০৪ রান। এই রান তাড়া করতে গিয়ে ২২৬ রানেই নবম উইকেটের পতন ঘটে লঙ্কানদের। এরপর শুরু হয় পেরেরা-ফার্নান্দোর বীরত্ব। এর সুবাদে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি শুরু হবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি।
টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো দশম উইকেট জুটির তালিকায় পেরেরা-ফার্নান্দোর ৭৮-ই এখন সেরা। এটা করতে গিয়ে তারা ভেঙেছেন ১৫ বছর পুরনো এক রেকর্ড। ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করাচিতে শেষ উইকেট জুটিতে মুশতাক আহমেদকে সাথে নিয়ে ৫৭ রান যোগ করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক।
দারুণ এই কীর্তি গড়ার পর কুশল জেনিথ পেরেরার নামের সাথে এখন ‘সুপারম্যান’ শব্দটা যোগ করাই যায়। সেই সুপারম্যান ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি বলেই কাজটা করতে পেরেছি। আমি নিজের কাজটা করেছি। দলের জয়ে অবদান রাখাটা সব সময়ই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমার জন্য স্মরণীয় একটা জয়।’ প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসও মানছেন যে পেরেরার ইনিংসটাই ছিটকে দিয়েছে তাদের। বললেন, ‘বিস্ময়কর একটা ক্রিকেট ম্যাচ হয়ে গেল। অবশ্যই আমরা হতাশ। তবে, এটা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নতুন একটা বিজ্ঞাপন। পেরেরা সত্যিই অবিশ্বাস্যভাবে ব্যাট করেছেন, ওই এই ম্যাচের সুপারম্যান!’