বিশ্বকাপ দিয়েই ফিরছেন ওয়ার্নার-স্মিথ!

স্পোর্টস রিপোর্টার

সময় ঘনিয়ে আসছে। বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দুই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য বিবেচনা করা যাবে আগামী ২৯ মার্চ থেকে। এর অর্থ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ দু’টি ম্যাচ (২৯ মার্চ ও ৩১ মার্চ) খেলতে পারতেন এই দুই তারকা।

তবে, সেই পথে হাঁটছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কারণ, বিশ্বকাপ যে কন্ডিশনে হবে তার সঙ্গে আরব আমিরাতের পার্থক্যটা আকাশ আর পাতালের। তাই, স্মিথ-ওয়ার্নারকে ব্রিসবেনে রেখেই অনুশীলন করতে দেওয়া হবে। এর অর্থ হলো, প্রত্যাবর্তনটা পিছিয়ে যাচ্ছে এই দুই ক্রিকেটারের। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেই নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাবেন তারা। আর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন বিশ্বকাপে।

দেশটির সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক মনে করছেন, এই দু’জনের মান বিবেচনা করে বিশ্বকাপের মঞ্চে চাইলে এই দু’জনকে সরাসরি সুযোগ দেওয়াই যায়। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের কথা যদি বলেন, তাহলে আমি বলব ওদের নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। দলের জন্যই ওদের ফেরাটা জরুরি। ওরা যে অপরাধ করেছে, তার সাজা পেয়েছে। এবার নিজেদের প্রয়োজনেই ওদের ফেরাতে হবে। ওরা যে দলের জন্য বিস্তর রান করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

এই মুহূর্তে দু’জনই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) থেকে ফিরে কনুই ইনজুরি কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন। বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়াটা তাদের জন্য একরকম নিশ্চিতই বলা যায়। ফলে, বিশ্বকাপের আগে আইসিসির আয়োজিত প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলার সুযোগ পাবেন তারা। ২৪ থেকে ২৮ মে’র মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো। ২৫ ও ২৭ মে—দু’টি ম্যাচ তারা খেলবে যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। আগামী এক জুন ব্রিস্টলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা। আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া দল নিজেদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত করে ফেলবে। মে’র শুরু থেকে ব্রিসবেনের বুপা ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ক্যাম্প।

জানিয়ে রাখা ভালো, গেল মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বল টেম্পারিং-এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন স্মিথ-ওয়ার্নার। তরুণ ক্যামেরন বেনক্রফটকে দিয়ে বল টেম্পারিং করান তারা। পরবর্তীতে নিজেদের কুকীর্তির কথা স্বীকারও করেন স্মিথ-ওয়ার্নার। তাই স্মিথ-ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছরের জন্য ও বেনক্রফটকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।