ইত্তেফাক ডেস্ক
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৩৩ জন চিকিত্সকের বিপরীতে রয়েছেন আটজন এবং গাইবান্ধার সাঘাটায় ৯ জনের বিপরীতে আছেন আটজন। যে একজন রয়েছেন তিনি বদলি হয়েছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
২৫ ডাক্তারের পদ শূন্য ও
চারজন প্রেষণে
জামালপুর:জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালে ২১জন এবং ১২ ইউনিয়নে ১২জন মোট উপজেলায় ৩৩ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র ৮ জন। তার মধ্যে প্রেষণে অন্যত্র থেকে বেতন নিচ্ছেন চারজন। মাত্র চারজন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে নদী ভাঙন, বন্যা কবলিত দরিদ্র উপজেলাবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন যাবত্ অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া ডাক্তার সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারটি প্রায় পাঁচ বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে। একমাত্র আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে দরিদ্রপীড়িত অঞ্চলের রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের মধ্যে আব্দুল কাশেম মিয়া, ইয়াছিন সরকার, সবিতা বেগম, কামরুন্নাহার বিউটি ও শিল্পি বেগম জানান, হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারে এক সময় সিজারসহ প্রতিদিন বিভিন্ন অপারেশন করা হতো। এতে দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হতো। দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ অব্যবহূত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম শহীদুর রহমান জানান, ডাক্তার সংকটের কারণে হাসপাতাল চালানো সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রেষণে বদলি বাতিলসহ শূন্যপদে ডাক্তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় জানান, ইসলামপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালটিতে ২১টি পদ রয়েছে। এই উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ এ উপজেলায় মোট ৩৩ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ৮ জন ডাক্তার কাগজ-কলমে কর্মরত থাকলেও ৪ জন বিভিন্ন স্থানে প্রেষণে রয়েছেন। প্রেষণে চার জনের মধ্যে ১। ডা. আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন তিনি বর্তমানে প্রেষণে মুগদা হাসপাতাল, ঢাকায় কর্মরত আছেন। ২। ডা. সায়দাতুস সাবা, তিনি বর্তমানে প্রেষণে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ, জামালপুর এ কর্মরত আছেন। ৩। ডা. আরিফুল ইসলাম তিনি বর্তমানে প্রেষণে টাংগাইল মেডিক্যাল কলেজ, টাংগাইল এ কর্মরত আছেন। ৪। ডা. ফারজানা জামান মুনা, তিনি বর্তমানে প্রেষণে ঢাকায় কর্মরত আছেন।
সিভিল সার্জন তিনি আরো জানান, এই চারজন ডাক্তারকে মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে আদেশ দিয়ে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
উদ্বোধনের পাঁচ বছরেও
৫০ শয্যা হয়নি
সাঘাটা (গাইবান্ধা):৫০ শয্যার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধনের দীর্ঘ পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও চালু হয়নি এর কার্যক্রম। এ ছাড়া পুরাতন ৩১ শয্যার হাসপাতালেও রয়েছে ডাক্তারসহ লোকবল সংকট, এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও ইসিজি মেশিন থেকেও নেই। সব মিলে নানা ধরনের দৈন্যদশা বিরাজ করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। ফলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
পুরাতন ৩১ শয্যার হাসপাতালে ডাক্তার ও লোকবল সংকট, এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও ইসিজি মেশিন বন্ধ রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটিও প্রায় বিকল সবমিলে নানা সমস্যার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দৈন্যদশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ৯ জনের স্থলে মাত্র একজন থাকলেও ইতোমধ্যেই তিনি উচ্চতর শিক্ষার কারণে বদলি হয়েছেন। তিনি যে কোনো মুহূর্তে চলে যাবেন। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন (ইউএসসি) ১০টি পদে মাত্র দুইজন রয়েছেন, আটটি পদই রয়েছে শূন্য। এ ছাড়া জুনিয়র কন্সালটেন্ট (গাইনী এন্ড অবস) একজন, জুনিয়র কন্সালটেন্ট (মেডিসিন) একজন, জুনিয়র কন্সালটেন্ট (সার্জারি) একজন, জুনিয়র কন্সালটেন্ট (এ্যানেচ.) একজন, ডেন্টাল সার্জন একজন, মেডিক্যাল অফিসার দুই জন, আরএমও একজন, সহকারী সার্জন (ইউএসসি) আট পদ শূন্য রয়েছে। এসএসএন পদে দুই জন কাগজ-কলমে থাকলেও মমতাজ পারভীন ও সুলতানা রাজিয়া এ দু’জনই প্রেষণে নিজ এলাকা সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।