আগের অবস্থায় নিতাইগঞ্জ তিন সারিতে ট্রাক পার্কিং

সৃষ্টি হচ্ছে

যানজট

১৮ নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কেও বিস্তৃত

হয়ে পড়েছে নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড

 

 

 

g স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ডটি নিয়ে এলাকাবাসীর দুঃখ রয়েই গেল। দেড় বছর আগে সমন্বিত উদ্যোগের পর এলাকাবাসীরা ট্রাকস্ট্যান্ড মুক্ত এলাকার স্বপ্ন দেখলেও সেটি ফিকে হয়ে গেছে এক বছর আগেই। তবে বর্তমানে আবারো আগের মতোই তিন সারিতে ট্রাক পার্কিং করেই চলছে লোড আনলোড। ১৮নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কেও বিস্তৃত হয়ে পড়েছে নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড। সেখানে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি।

সূত্রমতে, নানা কারণেই আলোচিত নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ডটি। ট্রাকস্ট্যান্ডটি উচ্ছেদের জন্য ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নাসিক প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া দেয়। কিন্তু সিটি করপোরেশনের নোটিসের জবাব না দেওয়ায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী। ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ১০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলেন হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ দিকে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এমপি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাকস্ট্যান্ড ওঠানো ও ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার দাবি করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী। তিনি বলেন, এমপি সেলিম ওসমান চাইলেই নিতাইগঞ্জ এলাকাটি ট্রাকস্ট্যান্ডমুক্ত রাখতে পারেন। কারণ এ সব ট্রাকের কারণে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের নগরভবনও অবরুদ্ধ হয়ে যায় যানজটের কারণে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দিনের বেলায় ট্রাক না রাখার নির্দেশনা দেন। পরে ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ১ আগস্ট থেকে নিতাইগঞ্জের বোটখালের উপরে মালামাল লোড আনলোড করবেন ব্যবসায়ীরা। একটি ট্রাক লোড আনলোডে সর্বোচ্চ সময় পাবে ৩ ঘন্টা। মূল সড়কের উপর কোনো ট্রাক থাকতে পারবে না। যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে দিনের বেলায় ট্রাক নিয়ে অবস্থান করে তা হলে তাকে জরিমানা ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল দেওয়া হবে।

সমন্বিত পদক্ষেপের পর কয়েক মাস নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ডটি একটি শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হলেও গত বছরের শুরু থেকে ফের বিশৃঙ্খল হতে থাকে নিতাইগঞ্জ। তবে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে অলিতে গলিতেও। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন সড়ক (এসজি রোড) ও শহীদ বাপ্পী সড়কটি মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দেড় বছর আগে যেমন নিতাইগঞ্জে ৩টি ট্রাক একই সারিতে পার্ক করে মালামাল লোড আনলোড করা হতো এখনও সেখানে সেই একই অবস্থা। অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকালে সন্তানদের নিয়ে স্কুলগামী অভিভাবক ও কর্মস্থলে গমনকারীদের সমস্যা হচ্ছে সবচে বেশি।