মোবাইল অ্যাপ ‘মাছের ডাক্তারে’ উপকার পাচ্ছেন মত্স্য চাষিরা

g কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

মত্স্য চাষিদের সেবায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা মত্স্য অফিসার মো. লতিফুর রহমানের তৈরি মোবাইল অ্যাপ ‘Dr. Fish (মাছের ডাক্তার)’- এ উপকার পাচ্ছেন দেশের মত্স্য চাষিরা। ওই মত্স্য অফিসার শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘মাছের ডাক্তার’ অ্যাপ ব্যবহারে উপকারভোগী মত্স্য চাষি চুয়াডাঙ্গার চঞ্চল, চট্টগ্রামের আজগর, গাজীপুর কালীগঞ্জের আলামিন ও কাজী ফয়সাল, গোপালগঞ্জের অর্ণব মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, মাছ এবং পুকুরের সমস্যা নিয়ে মাছের ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তার পরামর্শে তারা বর্তমানে ভালো আছেন। মোবাইল অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পেরে তারা খুশি। মত্স্য চাষিরা জানান, অনেক সময় তাদের সমস্যা নিয়ে উপজেলা মত্স্য অফিসে গেলে দেখা যেত কর্মকর্তারা মিটিং বা ট্রেনিং এ আছেন। তখন সেবা পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন আর মত্স্য অফিসে যেতে হয় না। মোবাইলেই মাছের ডাক্তার পাওয়া যায়।

মো. লতিফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপকল্পকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মত্স্য সংশ্লিষ্ট সেবা আরও সহজতর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ অ্যাপটি তৈরি করা হয়। তিনি এবং বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার সিনিয়র মত্স্য অফিসার রাজকুমার বিশ্বাস অডিও অথবা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক এখানে মাছের ডাক্তার হিসেবে সেবা প্রদান করেন।

তিনি আরও জানান, গত বছরের অক্টোবরে মোবাইল অ্যাপটি তৈরি করা হলেও মত্স্য চাষিরা বিষয়টি নিয়ে তখন খুব আগ্রহ প্রকাশ করেননি। কিন্তু দেশের মত্স্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্ভাবিত অ্যাপ-এর কার্যকারিতা নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। আর এরপর থেকেই অ্যাপটি নিয়ে মত্স্য চাষিদের মধ্যে প্রচুর আগ্রহ দেখা গেছে। দেশের সহস াধিক মত্স্য চাষি অ্যাপটি ব্যবহার করে সেবা গ্রহণ করছেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে প্রতিবেশী দেশ ভারত, সৌদি আরব ও দুবাইতেও অ্যাপটি ব্যবহার হচ্ছে।      

কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. শিবলী সাদিক বলেন, মত্স্য সেবা পরামর্শ সহজীকরণের লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের মত্স্য চাষিরা এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের ডাক্তারদের সঙ্গে অডিও অথবা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক এ সংক্রান্ত সেবা পাচ্ছেন। ফলে মত্স্য চাষিগণ সঠিক সময়ে সঠিক সেবা পেয়ে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।