নগটরডেম শিক্ষার্থী হত্যায় তরুণী গ্রেফতার

রাজধানীর নটর ডেম কলেজের ছাত্র ইয়োগেন হেনসি গোন সালভেজ হত্যার প্রধান আসামি সখিনা বেগম সবিতাকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। গত শনিবার রাতে মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব বলছে, সবিতা একাই ইয়োগেনকে হত্যা করেছেন। হত্যার পরিকল্পনাকারীও তিনি। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের ছোটকয়ের এলাকায়। তিনি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে ঢাকা জজ কোর্টে শিক্ষানবিস আইনজীবী। পাশাপাশি একটি কোচিং সেন্টারেও পড়াতেন তিনি। সবিতা খুনের কথা স্বীকার করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর সবুজবাগের কদমতলার হিরাঝিল মসজিদ গলির ৭৭/এ নম্বর বাসার নিচতলার একটি ঘর থেকে ইয়োগেনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই বাসা ভাড়া করেছিলেন সবিতা। ইয়োগেনের পিঠে ও পেটে ১৫টিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের কোতোয়ালির পাথরঘাটায়। থাকতেন ঢাকার নারিন্দা এলাকায় মামাত বোন শিপ্রার বাসায়।

র্যাব জানিয়েছে, নিহত ইয়োগেনের সঙ্গে সবিতার ২০১৩ সালে পরিচয়। ২০১৭ সালে ইয়োগেন নটর ডেম কলেজে পড়ার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। জাফর উল্লাহ নামে এক আইনজীবীর সঙ্গে সখ্য ছিল সবিতার। সবিতার দেওয়া তথ্যমতে, জাফরের বিরুদ্ধে হয়রানি ও প্রতারণার মামলা করেন সবিতা। ওই মামলার সাক্ষী ছিলেন ইয়োগেন। সাক্ষী হওয়ায় ইয়োগেন তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সবিতাকে ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। পরে জাফরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন তিনি। কিন্তু ইয়োগেনের আশঙ্কা ছিল সাক্ষ্য দিলে জাফর তার ক্ষতি করতে পারে। এজন্য আলাদা একটি বাসা ভাড়া করে দেওয়ার জন্য সবিতাকে অনুরোধ করেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সবুজবাগের কদমতলার হিরাঝিলের ওই বাসা ভাড়া নেন সবিতা। তবে বাসায় ওঠেননি ইয়োগেন।

সবিতা র্যাবকে জানিয়েছেন, তার কাছে বাসা ভাড়ার অগ্রিম আট হাজার টাকা দাবি করেন। এ ছাড়া মাদক সেবনের জন্যও টাকা দাবি করতেন নিয়মিত। এতে বিরক্ত হয়ে ইয়োগেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সবিতা। হত্যার উদ্দেশ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকা থেকে ৪৫০ টাকায় একটি ব্যাগ ও ৬৫০ টাকায় একটি বঁটি কেনেন তিনি। এর পর থেকেই ইয়োগেনকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ইয়োগেনকে নিয়ে তিনি তার ভাড়া বাসায় যান। বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ইয়োগেন ও সবিতার যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। ইয়োগেন একবার বাইরে গেলে সবিতা জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশান। ইয়োগেন বাসায় ফিরলে ওই জুস খেতে দেন সবিতা। এসব দৃশ্য তিনি ইয়োগেনের মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। পরে ইয়োগেনের ফোন থেকেই ইউটিউব চ্যানেলে চারটি ভিডিও আপলোড করেন। ইয়োগেন অচেতন হওয়ার পর হাত-পা মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে উপর্যুপরি বঁটি দিয়ে কোপাতে থাকেন সবিতা। এ সময় ইয়োগেন ওঠার চেষ্টা করলে পিঠের ওপর কোপ মারেন। খুন নিশ্চিত হওয়ার পর সবিতা খালি পায়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।