আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্নমুখী, পরস্পর-বিরোধী চিন্তাধারা একসঙ্গে হচ্ছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এটা প্রথম অভিজ্ঞতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা, মানবাধিকার, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২-এর সংবিধানে বর্ণিত মর্মবাণীর সঙ্গে বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির ঐক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে সামাজিক প্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি আমরা লক্ষ করছি না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির ঐক্য আমাদের গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সুখকর নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের সেগুনবাগিচাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সুফিয়া কামাল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ফওজিয়া মোসলেম, ভাইস প্রেসিডেন্ট লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমামোসলেমসহ কেন্দ্রীয় সম্পাদকবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।
সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয় তার মধ্যে রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঐ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে আন্তরিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
নির্বাচনকালে রাজনৈতিক কৌশলের নামে কোনো দল, জোট বা রাজনৈতিক দলের নেতা যেন যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, ঋণখেলাপি, নারী নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ গডফাদারদের সঙ্গে কোনো প্রকার নির্বাচনী ঐক্য বা সম্পর্ক গড়ে না তোলেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি পরিষদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী, ধর্মের লেবাসধারী কেউ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাতে জড়িত না হয় সেদিকে দৃষ্টি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নির্বাচনী কার্যক্রমে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সংখ্যালঘু ও ‘আদিবাসী’ নারীসহ প্রান্তিক সকল জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।