রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী হামলা এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা

সীমান্ত-সংলগ্ন দেশগুলোর উপর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর ক্রমাগত সন্ত্রাসী হামলা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর ঝুঁকির মাত্রাকে অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছে— যার প্রভাব মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে বিস্তৃত হচ্ছে। আফগানিস্তান ও ভারতে ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দিয়ে পাকিস্তান একদিকে নিজ ভূখণ্ডে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে বেড়ে ওঠার অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, অপরদিকে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ধরনের মদদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। শুধু প্রতিবেশী নয়, বাংলাদেশের মতো দূরের দেশগুলোও তাদের সন্ত্রাসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। একদিকে লস্করে তইয়েবা ও জইশ-ই মোহাম্মদ নামের জঙ্গি দলগুলো ভারতে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে, অপরদিকে তালেবান প্রকটভাবে সক্রিয় আফগানিস্তানে। অধুনা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি দলের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে ইরান। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি যেন জঙ্গিবাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দীন হামলার পরে পাকিস্তানে আশ্রয় গ্রহণ করে। হামলায় ব্যবহূত গ্রেনেডের উত্স পাকিস্তান বলে পরিচিতি আছে। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো পাকিস্তানের যথেষ্ট মদদপুষ্ট বলে কথিত আছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সক্রিয় দেখা যায়।  পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জঙ্গি নেতাদের প্রভাব রয়েছে ফলে রাষ্ট্রের বাইরেও অনেক অশুভ শক্তি জঙ্গিদের মদদ ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দেয়। ভারত ও আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহার এবং হামলা শেষে পাকিস্তানের ভূমিতে আশ্রয় নেয়া নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জঙ্গিদের বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। সায়িদ হাফিজ ও মাসুদ আজহার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নেতা হলেও তাদের বিচারের আওতায় আনতে বিশ্ব সমর্থ হয়নি। ভূ-রাজনৈতিক ফায়দা নেয়া পরাশক্তির ভূমিকাও অনেক সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নয়। তাই পাকিস্তান ক্রমাগতভাবে জঙ্গি মদদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেও জঙ্গি মদদ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু কাশ্মিরের পুলওয়ামার অবন্তীপোরায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর  কনভয়ে থাকা বাসে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মীরিদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। যদিও তাদের বিড়ম্বনা এড়াতে ভারত সরকার অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে ইতোমধ্যে। তার আগে ১৩ তারিখের সন্ধ্যায় পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সংলগ্ন ইরানের সিস্টান প্রদেশে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী ইরানের রিপাবলিকান গার্ডের সেনা বহনকারী বাসে পুলওয়ামার মতো একইভাবে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে আছড়ে পড়লে ২৭ ইরানি সৈন্য নিহত হয়। অনেকে আহত হয়। ভারতের পুলওয়ামা ও ইরানের সিস্টান প্রদেশের  হামলার ধরনে খুব মিল পাওয়া যায়। দুই দেশের প্রতিক্রিয়াও একই রকম। প্রেসিডেন্ট রোহানি তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলার আদেশদাতা ও হামলাকারীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে। ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল— পালটা জবাব যেকোনো সময়। এক বিবৃতিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দেবে ভারত। এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে তিনি বলেন, যারা যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেবে না ভারত। তিনি আরো জানান, আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ‘নিশ্চিন্ত থাকুন হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।‘

ভারতের পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায়, পুলওয়ামার আত্মঘাতী হামলাকারী আদিল আহমেদ দারের কৃষক বাবা গোলাম হাসান দার তার করুণ অনুভূতি ব্যক্ত করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘স্বজন হারানোর ব্যথা সবার জন্য সমান।’ যুবকদের কিভাবে আত্মঘাতী জঙ্গি বানানো হচ্ছে তার ভাষা থেকে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। গোলাম হাসান দার তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দায়ী করে বলেন, “কাশ্মীর সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে না করলে এই রক্ত ঝরবেই”। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,  ‘রাজনীতির জন্য আমাদের ছেলেরা জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে। ওর তো  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল।’ বাংলাদেশে হলি আর্টিসান হামলায় অংশ নেওয়া তরুণদের মতো নিরীহ সন্তানদের জঙ্গি বানানো হয়েছিল একইভাবে। জিহাদের কথা বলে তাদের ধর্মীয় উগ্রবাদে দীক্ষিত করা হয়েছিল এবং নিরীহ তরুণদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলি দিয়েছে ধর্মীয় রাজনীতির রূপকাররা। আদিল আহমেদ দার স্কুল থেকে পালিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ নেয়। হঠাত্ই জঙ্গি শিবিরে নাম লেখায়। তালিবানি শাসনের কট্টর সমর্থক হয়ে পড়ে। আফগানিস্তানে জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণের পর ‘গাড়ি টাকরানেওয়ালা’ নামেই তাকে চিনতো অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। একই সঙ্গে সামনে এলো জইশ জঙ্গির তালিবান কানেকশন। পুলওয়ামায় হামলার পরেই হামলার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যার পেছনে ছিল জৈশ-ই-মহম্মদের পতাকা আর সামনে সাজানো ছিলো আগ্নেয়াস্ত্র। হলি আর্টিসান হামলার সময় আমরা একই রকম ছবি দেখেছি।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার দুইদিনের মাথায় ফের ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরিতে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর এক মেজর। ভারতীয় সেনাবাহিনী বলছে, পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম ওই আইইডি রেখেছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে কঠিন শাস্তি দিতে প্রস্তুত আছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার এই পরিকল্পনা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আর পাকিস্তান তো বারবারই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে যে, হামলা হলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। কিন্তু উরি হামলার পর ভারত সারজিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল পাকিস্তানি কাশ্মিরে। পাকিস্তানের জবাব ছিল খুবই ঠাণ্ডা। এমনকি পাকিস্তান সারজিক্যাল স্ট্রাইক ধরনের অভিযানের অস্তিত্ব অস্বীকার করে নিজেদের ইজ্জত রক্ষ্ার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। অভিযান ছাড়াও বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত। এবারের পরিস্থিতি আরো প্রতিবাদ মুখর। জনগণের চাপ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন যে সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর এভাবে কাপুরুষোচিত হামলায় তিনি অত্যন্ত বিরক্ত।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লি দাবি করে আসছে, পাকিস্তান তার দেশে সক্রিয় এ জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। জইশ-ই-মোহাম্মদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও চেয়ে আসছে তারা। জঙ্গিগোষ্ঠীটির নেতা মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসীর তালিকায় রাখতেও ভারত অনেক দিন ধরেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে চাপ দিয়ে আসছে। তবে হামলার নিন্দা করলেও মাসুদ আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণা না করার ব্যাপারে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে চীন।

নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ যে রাস্তা দিয়ে চলছে তা তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। সারা ভারতবাসী এই হিংসাত্মক ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেবে। পৃথিবীর বহু দেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে যা যা দরকার সমস্তটাই করবে ভারত।  এদিকে ইসলামাবাদ সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে ভারতের সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন মোদি। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীকে অবাধ ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাল্টা আঘাত কবে করা হবে, কীভাবে করা হবে এবং কোথায় করা হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে। মোদীর এই মন্তব্যে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর জল্পনা শুরু হয়েছে। যেভাবে সেনা প্রত্যাঘাত করতে চায়, সেভাবেই করতে পারে— এ কথায় আবার অনেকে মনে করছেন, এবার অন্য কোনো ধাঁচের সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারে ভারত। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

ভারতের জবাব শক্ত হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যদিও কখন এবং কোথায় কিভাবে সেটা অনুমান করা দুষ্কর। পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে ভারতের মূল লক্ষ্য। উরি হামলার পর পাকিস্তানকে অনেকটাই একঘরে করতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। বাংলাদেশ ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছিল। এবারের হামলার পর পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের পক্ষে অনেকেই দাঁড়াতে চাচ্ছে না।

পাকিস্তান সমর্থিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যরা বৃহস্পতিবারের ওই হামলার দায় নিয়েছে। পাকিস্তান দেশটির পররাষ্ট্র নীতির অংশ হয়ে উঠেছে জঙ্গিবাদকে মদদ দেওয়া। এই কারণে শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ, এমনকি আফগানিস্তান-ইরানও পাকিস্তানের এই ছকের শিকার হচ্ছে। এই মদদের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সন্ত্রাস। হামলা, আতঙ্ক বাড়ছে প্রতিনিয়ত। দুই পারমাণবিক শক্তির দ্বন্দ্ব থেকে যুদ্ধ শুরু হলে সমগ্র অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এই শঙ্কাকে পুঁজি করে পাকিস্তান সন্ত্রাসকে ভর করে নিজ স্বার্থ হাসিল করার পথ ধরেছে; যদিও ঝুঁকি অনেক বেশি। পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসনির্ভর রাষ্ট্রকে অনেক পরাশক্তি অস্থিতিশীলতা ছড়াতে ব্যবহার করে। বদলে পাকিস্তান আর্থিক বা সামরিক সুবিধা পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়টিও যেমন বারবার আলোচনায় এসেছে, তেমনি মৌলবাদী বা পাকিস্তানপন্থিদের বাংলাদেশে ক্ষমতায়ন করতে তারা রাজনীতিকে প্রভাবিত করে অত্যন্ত লজ্জাহীনভাবে। যে দেশটির জঙ্গি মদদের বিষয়টি প্রকাশ্য, তাদের সঙ্গে সমঝোতা মূলত সন্ত্রাসকে উত্সাহিত করে।

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহিষ্ণুতা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। পাস্কিস্তান প্রতিবেশী দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার করে এবং নিজ স্বার্থ উদ্ধারে জঙ্গিদের পররাষ্ট্রনীতির যন্ত্র বা উপায় হিসেবে প্রয়োগ করে। ফলে নিরাপত্তা বিপন্ন হয় ও অহেতুক নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অপরদিকে বাংলাদেশে উত্থিত জঙ্গিবাদে পাকিস্তানি মদদের অনেক নজির থাকলেও ভারতের সাথে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা উভয় দেশ থেকে সন্ত্রাস দমনে নতুন নজির অনুকরণীয় প্রতিবেশী সম্পর্ক তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জেএমবি ভারতে ঘাঁটি গাড়তে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে নির্মূল না হলেও শক্তি হারিয়েছে মারাত্মকভাবে। অপরদিকে বাংলাদেশের ভূমি থেকে প্রতিবেশী ভারতের সকল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উচ্ছেদ করার ফলে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং মৌলবাদের বিস্তৃতি রোধ অনেকাংশে সম্ভব হয়েছে। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে একযোগে কাজ করে দক্ষিণ এশিয়াকে নিরাপদ করছে, অপরদিকে পাকিস্তানের সকল প্রতিবেশী কম-বেশি পাকিস্তানি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে।

 পুলওয়ামা হামলা শুধু ভারত নয়- এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে এবং সংঘাতের পথ উন্মুক্ত করেছে। মাসুদ আজহার বা ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয়দাতা পাকিস্তান চায় না কোনো শান্তির পরিবেশ থাকুক। সে কারণেই মুম্বাই থেকে পাঠানকোট, উরি থেকে পুলওয়ামায় একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ অনেকটাই স্পষ্ট। ভিন্ন দেশের ভেতরে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করা জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকে পাকিস্তানই লালন করে। এটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং সমর্থনযোগ্য নয়। পাকিস্তানকে অবশ্যই এই পথ পরিত্যাগ করতে হবে। পাকিস্তান এখন আঞ্চলিক দানবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী না হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি জঙ্গি এদেশে আটক হয়েছে এবং পৃষ্ঠপোষকতার অনেক বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিরাপদ দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণে একযোগে কাজ করতে হবে। অভিযুক্ত দেশগুলোকে একঘরে বা বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে সম্মিলিত নিরাপত্তা বলয় তৈরির নতুন কৌশল গ্রহন আগামীদিনের নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ঝুঁকি নির্ধারণ করা এবং মোকাবিলা কৌশল তৈরি করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। 

n লেখক: নিরাপত্তা ও স্ট্রাটেজি বিশ্লেষক,  ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস

(আই ক্লাডস) এর নির্বাহী পরিচালক।