সবদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এমন ঘোষণার পর সিলেটে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। কে কোন আসনের জন্য মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন; কেন্দ্র কাকে কোন আসনে মনোনয়ন দিচ্ছে; চায়ের কাপে কিংবা মাঠে এখন শুধু এই আলোচনা। বৃহত্তর সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে মনে করা হয় মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১। বেশ কয়েক বছর ধরে মিথ চালু আছে যে, এই আসন থেকে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়; সেই দল সরকার গঠন করে। তাই মর্যাদার এই আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে বেশ কৌতূহল রয়েছে। এ আসনে লড়তে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী পাঁচজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন- তার ছোট ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. সহুল হোসাইন, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এরআগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নাম এই আসেনে শোনা গেলেও তিনি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
অন্যদিকে এ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদিরসহ আরো কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও এখন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এমন গুঞ্জন রয়েছে। জোবায়দা সিলেটের রিয়ার এডমিরাল এম.এ খানের মেয়ে। তবে সাবেক ছাত্র নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ঐক্যফ্রন্ট থেকে সিলেট-১ আসন ও মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহ রয়েছে। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট থেকে সিলেটের ১৯টি আসনে গড়ে চারজন করে প্রার্থী হতে চান। এদিকে গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আসনে প্রার্থী হতে তিন বছর ধরে মাঠে আছেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। অনুজ মোমেনের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনা হয় অর্থমন্ত্রীর টাকায়। তবে অর্থমন্ত্রী বলেন- যদি যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয় তখন দল চাইলে তিনি নির্বাচন করবেন।
১৯৯১ সালে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার আব্দুল মালিক। তখন বিএনপি সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তখন সরকার গঠনও করে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে এই আসন থেকে আবুল মাল আবদুল মুহিত বিএনপির এম সাইফুর রহমানের কাছে হেরে যান। তখন বিএনপি সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালে সাইফুরকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন মুহিত। ২০১৪ সালে বিনা ভোটেই দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য হন অর্থমন্ত্রী মুহিত।