সড়কে নিয়ম মানে না চালক-পথচারী কেউ

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ডিভাইডারই একমাত্র সমাধান নয়। এখানে চালক, পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতাও জরুরি। কারণ রাস্তায় দেখা যায় ফুটওভার ব্রিজ থাকার পরেও ডিভাইডার দিয়ে লাফ দিয়ে মানুষ রাস্তা পার হচ্ছেন। মহিলারা বাচ্চা কোলে নিয়ে রাস্তা পার হয়। এমনকি ফ্লাইওভারের এপাশ থেকে ওপাশে হামাগুড়ি দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। মানুষ সড়কে শৃঙ্খলা মানছে না। মানুষের বিবেকটা এখানে খুব জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একই প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যারা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করেন তারা দেখবেন মানুষ মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন। এরমধ্যে গাড়ি এসে চাকায় পিষ্ট করে দিচ্ছে। এখানে কী শুধু চালককে দায়ী করবেন? অনেক গাড়িচালক ট্রাফিক সিগনাল মানেন না। ভিআইপি হয়ে অনেকে রং সাইডে গাড়ি নিয়ে যান। এটা ঠিক নয়। ভিআইপিরা তো অসাধারণ, তারা যদি রং সাইডে চলেন তাহলে সাধারণ মানুষ কেন রং সাইডে যাবে না! মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সকল মহাসড়কে ফোরলেনের পাশাপাশি বাইলেন ও ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। সড়ক মন্ত্রণালয় সেইভাবেই কাজ করছে।

সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশমালা প্রণয়নে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে রবিবার গঠিত ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নিয়েও গতকাল সংসদে প্রশ্ন ওঠে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ, শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ। গতবার শাজাহান খানের একটা হাসি নিয়ে কতকিছু ঘটলো। সেই শাজাহান খানকে প্রধান করে গঠিত কমিটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সক্ষম হবে?’

এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবারের বৈঠকে যখন শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয় তখন কেউ কিন্তু বিরোধিতা করেননি। তার নেতৃত্বে আরও ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি শহিদ ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগে চলমান ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রান্সজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উত্তরা ৩য় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের নিমিত্ত সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে চলছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সরকার দলীয় এমপি এম, আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সংসদকে জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ তে পরিবার প্রতি গাড়ির সংখ্যা সিলিং নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা কোনো এলাকার জন্য মোটরযান রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা বা সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেট্রোরেল, বিআরটি ইত্যাদি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে। এসব পদ্ধতি চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, চারলেন বিশিষ্ট কাঁচপুর ব্রিজ থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য বাই-লেন নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। বর্তমানে জরিপের কাজ চলছে। ঢাকা-৪ আসনের জাপার এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পোস্তগোলা মোড় থেকে শ্যামপুর, পাগলা হয়ে চাষাঢ়া পর্যন্ত রাস্তা চারলেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। ঢাকা শহরের চারপাশে ঢাকা ইনার সার্কুলার রুট (অংশ-২) এর আওতায় তেরমুখ-আব্দুল্লাপুর- ধউর-বিরুলিয়া- গাবতলী- বাবুবাজার-পোস্তগোলা- শ্যামপুর- পাগলা-চাষাঢ়া-ডেমরা রুটটি চারলেনে উন্নীত করা হবে।