ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংরক্ষণ করুন

বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের বহু আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষী আর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুরোটাই সংরক্ষণের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন এবং যে স্থানটিতে পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, সেই স্থান দুটিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন। শাজাহান খানের বক্তব্যের রেশ ধরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেই সংরক্ষণের দাবি জানান। গত রবিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ দাবি জানান শেখ সেলিম ও তোফায়েল আহমেদ।

সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে আমরা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এখানে অনেক ইতিহাস। এ সব ইতিহাস মুছে ফেলতে জিয়া চেষ্টা করেছিলেন, সেজন্য তিনি শিশুপার্ক বানান। বঙ্গবন্ধু যেই স্থানটিতে দাঁড়িয়ে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই স্থানটিকেও নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছে। আমরা চাই এ সব ঐতিহাসিক স্থানও থাকবে, শিশুপার্কও থাকবে। এখানে শিশুরা আসবে, তারা দেশের ইতিহাস জানবে। এখানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প। ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে এ উদ্যানকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

পরে এ বিষয়ে শেখ সেলিম বলেন, এ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। শুধু ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণই নয়, এ উদ্যানে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পুরো উদ্যানটিকেই সংরক্ষণ করতে হবে।

শেখ সেলিমের পর তোফায়েল আহমেদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান একটা ঐতিহাসিক জায়গা। অনেক স্মৃতিবিজড়িত এ উদ্যান। এটাকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। স্বৈরশাসক জিয়া এ ঐতিহাসিক উদ্যানকে নষ্ট করতেই শিশুপার্ক নির্মাণ করেন। এমনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই বটতলা থেকে আমরা বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছি সেই বটগাছটি পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।