জাবিতে জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুলের বেহাল দশা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত একমাত্র জিমনেসিয়ামটি বেহাল দশায় পড়ে আছে। শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই, যেগুলো আছে সেগুলোতেও মরিচা ধরেছে। অন্যদিকে অযত্ন আর অবহেলায় গত ২৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও শরীরচর্চার অন্যতম সহায়ক জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুলের সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে ছাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যায়ামাগার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিমনেসিয়ামের মেঝেতে পড়েছে ধুলোর আস্তরণ। ছাদে ধরেছে অসংখ্য ফাটল। তাই বৃষ্টি হলেই ফাটল দিয়ে পানি পড়ে মেঝেতে। ফলে দীর্ঘদিন মেঝেতে জমে আছে বৃষ্টির পানি। দেবে গেছে মেঝের বেশ কিছু অংশ। ডাম্বেল না থাকায় শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন ‘ইট’। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি। সচল যন্ত্রগুলোতেও ধরেছে মরিচা। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ওজন মাপার যন্ত্রটিও। শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত খাবার পানির পাত্রটিও অব্যবহার্য। অন্যদিকে সুইমিং পুলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের কিছুই অবশিষ্ট নেই। নিষ্কাশিত হয়ে তলানিতে আছে অল্প পানি। তাতে পড়ে আছে পলিথিন, কাগজ আর প্লাস্টিকের টুকরা। এক কথায় অবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এ অবকাঠামোটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সংস্কার করা হয়নি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধের পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে, তাই জিমনেসিয়ামের দেয়ালগুলোতে রঙ করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে পানি দিলে দু’দিন না যেতেই নিষ্কাশিত হয়ে যেত। ফলে ১৯৯৬ সালে সুইমিং পুলের পানি সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের ইনস্ট্রাক্টর ঠিকমতো আসেন না। তাই নিজেদের মতো করেই শরীরচর্চা করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শরীরচর্চার সময় পর্যাপ্ত খাবার পানিও পাচ্ছেন না তারা। নিয়মিত ঝাড়ু না দেওয়ায় ধুলোবালিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মেঝেতে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় মশা জন্মানোর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি: ইত্তেফাক

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহির ফয়সাল বলেন, মানুষের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন শরীরচর্চা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চার চমৎকার ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য। তবে এখানে শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত উপকরণের ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামটি শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাখার পরিবর্তে অসুস্থ করে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক হতাশা দূর করতে জিমনেসিয়ামের ভূমিকা হতাশাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের এক কর্মকর্তা বলেন, শরীরচর্চায় প্রয়োজনীয় সাইক্লিং মেশিন, ট্রেডমিল, মাল্টিজিম, ডাম্বেল, বারবেল ও ওয়েট যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি না থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন মতো শরীরচর্চা করতে পারেন না। এখানে যেসব সরঞ্জামাদি আছে তা পর্যাপ্ত নয়, তাই শরীরচর্চার জন্য আগের মতো শিক্ষার্থীরা এখানে আর আসেন না। আবার ছাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যায়ামাগার নেই। ফলে ছাত্রীরা পড়েন নানা অসুবিধায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, যেসব যন্ত্রপাতি নষ্ট, সেসব ঠিক করা হবে। আর যেসব যন্ত্রপাতির সংকট আছে, সেগুলো নতুন কেনার চেষ্টা করবো। আর মেয়েদের শরীরচর্চার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইনস্ট্রাক্টর দায়িত্ব পালন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়নি। অতিদ্রুত দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। তখন একজন ইনস্ট্রাক্টর নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।