শিক্ষা বোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি 

ব্যবহারিকের নামে ২০০০ টাকা করে নিচ্ছে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৩

চলতি বছরের (২০২৬ সাল) এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবহারিকের নামে কোন অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে না নিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক গত ৪ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে প্রতিটি স্কুল বরাবর, অথচ সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ বোর্ডের এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রুপভেদে ৮০০ টাকা হতে ২,০০০ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখা হতে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে প্রায় ১২শত শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবহারিক ফি’র নামে গড়ে ১২ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ করতে অপারগ একাধিক শিক্ষার্থী ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘এখনো ব্যাবহারিক পরীক্ষা বাকি, কোনভাবে যদি জানতে পারে আমি/আমরা সাংবাদিকের কাছে এ তথ্য দিয়েছি, তাহলে আমাকে ফেইল করিয়ে দিবে।’ 

বোর্ডের নির্দেশনা কোন টাকা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে জানেন কি না প্রশ্ন করা হলে ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ফরম ফিলাপ করার পরও শুনেছি আমাদের থেকে বেশি টাকা নিয়েছে, টাকা তো ফেরত দেয়নি, তাই এখন ব্যবহারিকে টাকা না নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তো টাকা নিচ্ছে, স্কুল কলেজে কী হয় বোর্ড অবগত, কই কখনো টাকা ফেরত দিয়েছে উদাহরণ নেই।  কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তারও নজির নেই। শুধু শুধু আমরা দুই চারজন কথা বলে নিজেদের বিপদে ফেলতে চাই না।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাবক ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘সবার কাছ থেকেই টাকা নিচ্ছে, কিন্তু মানি রিসিট দিচ্ছে না, আর টাকা অভিভাবকদের সরাসরি দেওয়ার সুযোগ নেই। স্টুডেন্টের মাধ্যমে নিচ্ছে। তাই আমাদের কিছু বলারও সুযোগ নেই।’

কিন্তু বোর্ডের নির্দেশনা টাকা নেওয়া যাবে না, আপনারা বোর্ডে অভিযোগ করতে পারেন, বোর্ড ব্যবস্থা নিবে, এমন প্রশ্নে এই অভিভাবক বলেন, ‘বোর্ড ভালো করেই জানে কেউ অভিযোগ করবে না, তাই তারাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কুলের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে খায়। কোন স্কুলে কী হয় বোর্ড কর্তারা সবাই জানেন, আর যুক্তির খাতিরে যদি বলেন তারা জানে না, তাহলে বলবো তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছে না, তাদের এ পদে থাকার যোগ্যতা নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়া বলেন, ‘ব্যবহারিকের জন্য টাকা নিচ্ছে এর কোন মানি রিসিট দেয়নি,  আমি আপনার কাছে বলবো আপনি লিখবেন, কিন্তু প্রমাণ দিতে পারবেন না, ২০০০ টাকা নিচ্ছে এটা সত্যি। কিন্তু কথা বললে বিপদ হবে, নাম্বার কম দিবে, ফেইল ও করিয়ে দিতে পারে, স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে কতো টাকাই তো দিয়েছি, তাই এই দুই হাজার টাকার জন্য নিজের রেজাল্ট খারাপ করতে চাই না।’

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘বোর্ড থেকে এবার কড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে ব্যবহারিকের নামে কোন অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। তারপরও যদি কোন প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে থাকে আপনি তুলে ধরেন আমি ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। এরা বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, অনেক ক্ষেত্রে মানি রিসিট ও দেয় না,  অভিভাবকরা এদের  বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও ভয় পায়। আর এ সুযোগ টা এরা নেয়।’

ব্যবহারিকের নামে ২০০০ টাকা আদায়ের বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের  আহবায়ক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানকে বারবার সতর্ক করার পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না, এবার এদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিবো যাতে আগামীতে আর কেহ সাহস না পায় বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করার। শিক্ষাটাকে এরা ব্যবসায় রূপান্তর করেছে।’ সাংবাদিকদের এদের অনিয়মের বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে আহবান জানান তিনি।

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২০০০ টাকা করে নিচ্ছে এ বিষয়ে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে  বলেন, ‘বোর্ডের নির্দেশনার বাহিরে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু এ বিষয়টি আমি এখনো জানি না, আপনার কাছ থেকে শুনলাম টাকা নিচ্ছে। তাই অধ্যক্ষর কাছ থেকে আমি জানতে চাইবো।’ তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ আমার ফোনও দিনের বেলায় ধরেন না।

তবে এ বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি, এছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপে বোর্ডের নোটিশ এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এমএএম