আবুল ইসলামের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যান খ্যাত আবুল ইসলামের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারি।

আবুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে মরহুমের কবর জিয়ারত, হাজিরবাগ জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান এবং বিকাল ৩টায় হাজিরবাগ আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশন চত্বরে  ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

২০০৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান আবুল ইসলাম। ১৯৫৫ সালে তিনি মৌখিক ভোটে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বর নির্বাচিত হন। শুরু হয় তার জনপ্রিয়তার পথ চলা।

আরো পড়ুন: শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আরব আমিরাতের ইতিবাচক সাড়া

১৯৫৮ সালে ঝিকরগাছার তৎকালীন বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমান নির্বাসখোলা ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন) নির্বাচিত হন সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে। 

১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খাঁন মৌলিক গণতন্ত্র চালুর নামে ফরমান জারি করেন ইউপি চেয়ারম্যানদের ভোটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হবেন। জনগণের সরাসরি ভোটের দরকার নেই। আইয়ুব খাঁন নির্দেশ দেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ফরমান সমর্থন সূচক রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠাতে। তখন গোটা পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই ফরমানের বিরুদ্ধে কথা বললেন। তিনি বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ওই ফরমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠান। 

তিনি রেজুলেশনে উল্লেখ করেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার তা খর্ব করার এখতিয়ার কারো নেই। চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই রেজুলেশনের কপি স্পিকার ও দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় তাকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা সাবাস চেয়ারম্যান শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এরপর থেকে আবুল ইসলাম সারাদেশে সাবাস চেয়ারম্যান নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। 

তিনি ১৯৬৬ সালে যশোর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। খুলনা বিভাগে তিনিই একমাত্র আওয়ামী লীগের মেম্বর নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান থেকে অবিভক্ত ঝিকরগাছা চৌগাছাসহ মণিরামপুর নির্বাচনী এলাকার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

আবুল ইসলাম ১৯৪৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আবুল ইসলাম সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি দেড়শ সুইসাইড স্কোয়াড নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  

কিংবদন্তী এই পুরুষ ১৯২৪ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সরদার নাসিরউদ্দীন তৎকালীন সমাজের পঞ্চায়েত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ