শরীরে ভিটামিন-ডি এর স্বল্পতা বুঝবেন যেভাবে

সুস্থ-সবল স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-ডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভিটামিন-ডি একটি স্টেরয়েড হরমোন। এটি শরীরে প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ইনটিসটাইন থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করে এবং পাশাপাশি এটি আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। 

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি হলে ছোট থেকে বড় সবারই সমস্যা দেখা দিতে পারে

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি হলে ছোট থেকে বড় সবারই সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের রিকেট রোগ অর্থাৎ পা বেঁকে যাওয়া, হাড় নরম হয়ে যায়, মাথার খুলি বড় হয়ে যাওয়া, বয়স্কদের অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। হাড় ক্ষয়, ব্যথা, ওজন বেড়ে, চুল পড়ে যাওয়া, ডিপ্রেশন এবং শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশপাশি এর ঘাটতিতে শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। 

গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রবণতা ব্যাপক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে বিশ্বের অন্তত একশ কোটি মানুষের ভিটামিন-ডির ঘাটতি আছে এবং তারা এ সমস্যাকে ‘গ্লোবাল হেলথ প্রবলেম’ বলে আখ্যায়িত করেছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রবণতা ব্যাপক। রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা কম কিনা জানতে পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। 

শরীরে ভিটামিন-ডি এর সংকটে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকাকে

শরীরে ভিটামিন-ডি এর সংকটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সঠিক নিয়ম ও সময় নিয়ে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকাকে। কারণ, সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া অনকে সহজ। ১৯২০ সালে ভিটামিন-ডি আবিস্কার করেন স্যার এডওয়ার্ড মেলানবাই।

সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়টা ভিটামিন-ডি বেশি তৈরি করে

কখন কোন সময়ে রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়
সূর্যের আলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়টাতে সূর্যের আলোর সাথে যে রশ্মি আসে সেটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী। অর্থাৎ, দিনে যে সময়টাতে আপনার ছায়া আপনার তুলনায় ছোট, তখনই সেই আলোতে আপনার ত্বক সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-ডি তৈরি করতে পারবে।

যাদের শরীরে ভিটামিন ডি রয়েছে, তাদের করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি

সূর্যের এই আলো শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে আপনাকে সুস্থতা এনে দিতে পারে। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হলেও যতটা সম্ভব শরীরে যেন সূর্যের আলো লাগে, সেটির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সম্প্রতি ক্লিনিক্যাল ইনডোক্রিনোলজি এন্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি রয়েছে, তাদের করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। আবার কোন কোন গবেষণা বলছে শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রার ভিটামিন ডি থাকলে তা সাধারণ সর্দি-জ্বর এবং ফ্লু প্রতিরোধেও সাহায্য করে। 

রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা কম কিনা জানতে পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা

ভিটামিন-ডি এর স্বল্পতা বুঝবেন যেভাবে

  • স্থুলতা
  • কিডনি ও লিভার জটিলতা
  • মাংসপেশি ও হাড় ব্যাথা
  • ক্লান্তবোধ করা 
  • মুড চেঞ্জ
  • অতিরিক্ত চুল পড়া 

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি কমাতে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি কমাবেন যেভাবে

  • সূর্যের আলোতে বেশি সময় থাকার চেষ্টা করুন।
  • পুষ্টিসম্পন্ন খাবার খাবেন। যেমন: ছোট মাছ, পনির, ডিমের কুসুম, মাশরুম, দুধ, দই ইত্যাদি। 
  • স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের অভ্যাস করুন। শরীরচর্চা করুন দিনের সূর্যের আলোতে। 
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।