গাংনীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক  

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নে নির্বাচনি সহিংসতায় দুই সহোদর নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান। 

নিহতরা হলেন, লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের সুলতান ফকিরের ছেলে জাহারুল ইসলাম (৫০) ও তার ভাই সাহাদুল ইসলাম (৪৮)। গুরুতর আহতরা হলেন, নিহত জাহারুলের স্ত্রী শেফালী খাতুন (৪৫), ওই গ্রামের মৃত নজিমুদ্দীনের ছেলে জেল হক (৭০) ও গোলাম হোসেন (৬৫), রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে বজলুল হক (৩০) ও নিহত সাহাদুলের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুবর্ণা খাতুন (২২)। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে গাংনী থানায় নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কাথুলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের বর্তমান মেম্বর আজমাইন হোসেন টুটুল ও সাবেক মেম্বার আতিয়ার রহমান আসন্ন ইউপি নির্বাচনে (মেম্বার) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। আজমাইন হোসেন টুটুলের কর্মী-সমর্থকরা সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিয়ারের মহল্লায় ভোট চাইতে গেলে তার কর্মী-সমর্থকরা হামলা করেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে প্রার্থী টুটুলের দু’জন কর্মী জাহারুল ও সাহাদুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। গুরুতর আহত ৪জনকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

নিহতদের পারিবারের দাবি, মেম্বর প্রার্থী আতিয়ার রহমানের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে, প্রার্থী আতিয়ার রহমানের কর্মী-সমর্থকরা বলেন, আজমাইন হোসেন টুটুলের লোকজন আগের দিন রবিবার আমাদের লোকজনকে হামলা করেন। আজ সোমবার পুনরায় তারা হামলা করতে এলে সংঘর্ষ হয়।  
 
ওসি বজলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।