আগামী ১১ নভেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সাতটি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেশের একমাত্র চতুদের্শীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কাস্টমসের সাত রাজস্ব কর্মকর্তাকে। এতে করে স্থলবন্দরের শুল্ক দপ্তরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ লোকসানের আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনের সাত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য চিঠি ইস্যু করেন উপজেলা নির্বাচন অফিস। চিঠিতে সহকারী কমিশনারসহ দুই জন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং চার জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে ভোট গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বন্দরে এই সাত কর্মকর্তাই সকল শুল্ক আদায় সহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সকল কর্মকর্তা ভোটের দায়িত্ব পালনে স্টেশন ছেড়ে গেলে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তারা তিনদিন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে শুল্ক কর্মকর্তাদের একদিন ভোট গ্রহণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার কারণে বন্দরের কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ে। আর বন্ধ হয়ে যায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায়।
এ অবস্থায় বন্দর কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য অন্তত: তিনজন কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য গত ৬ নভেম্বর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন বন্দরটির সহকারী কমিশনার মবিন উল ইসলাম। এদিকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক অনুরোধ জানান অন্তত তিনজন কর্মকর্তা ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন এখনো বিষয়টি বিবেচনা করেনি।
দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান)। এটি দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর। এ স্থলবন্দরে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টি পণ্যবাহী ট্রাকের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। মহামারী করোনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটলেও করোনা সংকটের মধ্যে এ স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নানা সংকটের মধ্যদিয়েও এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৬১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আয় হয়েছে এই বন্দরে।
সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের ট্রেজারার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, সম্ভাবনাময় এই চতুর্দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের গত অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ রাজস্ব আয় হয়েছে। ইউপি নির্বাচনের কারণে স্থলবন্দরে সহকারী কমিশনারসহ একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বাদ রেখে অন্যান্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া সমুচিত হতো। এতে করে সরকারের বেধে দেয়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়বো। বিষয়টির সমাধান প্রত্যাশা করি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার মবিন উল ইসলাম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সোহেব আলীকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তবে রাজস্ব কর্মকর্তা দুজনই আছে।