কাঁচামাল সংকটে চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ, বাণিজ্য হারাচ্ছে কেপিএম

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৪

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম)। মিলটিতে কাগজের বিপুল বাজার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে বড় বাণিজ্যিক সুযোগ হারাচ্ছে। কাঁচামাল সংকট, জনবল স্বল্পতা ও পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাবনাময় বাজার কাজে লাগাতে পারছে না।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলা-এ অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী মিলটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন। তবে নানা সমস্যায় বর্তমানে সেই সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের শিক্ষা খাতেই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাগজের চাহিদা রয়েছে। শুধু জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর চাহিদাই প্রায় ৭০ হাজার টন। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ বাজার নিশ্চিত করতে পারলে ক্রেতা নিশ্চিত। কিন্তু এই সুযোগ ধরতে পারছে না কেপিএম।

চলতি বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দ্রুত এক হাজার টন কাগজ সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি প্রশংসা কুড়ালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। মূলত উৎপাদন সীমিত থাকায় বড় অর্ডার নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে কাগজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের মিলে চাহিদা অনুযায়ী কাগজ উৎপাদন করতে পারছে না। এরমধ্যে যথা সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ করা যায় না। কর্মচারী সংকট, মেশিনারিজ সমস্যাসহ নানা জটিলতা থাকার কারণে বড় বাণিজ্যগুলো হাত ছাড়া হচ্ছে। ব্যাপক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সীমিত উৎপাদনের কারণে বড় সরবরাহের সুযোগ নিতে গড়িমসি করে কর্তৃপক্ষ।

কেপিএম-এর মহাব্যস্থাপক (উৎপাদন) মো. মইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা কাঁচামাল সরবরাহ। যথা সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ করা গেলে চাহিদা অনুযায়ী কাগজ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সারা বছর কাঁচামাল সরবরাহ না থাকায় সমানতালে উৎপাদন ধরে রাখা যায় না।

প্রতিষ্ঠানটির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, মাসের অর্ধেক সময়ের কম মিলে চালু থাকে। যে কারণে চাহিদা থাকলেও বড় কোন অর্ডাও নিতে পারছি না।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন-এর অধীন এই প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত জনবল দুই হাজারের বেশি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র কয়েকশ’ শ্রমিক। কাঁচামালসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে প্রভাব পড়ে উৎপাদনেও। যে কারণে বাজার দখলে চলে যায় আমদানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে।

 

ইত্তেফাক/এমএসআর