অপু মাহফুজ। এদেশের সৃজনশীল জগতের অনেক কিছুই তার হাত ধরেই শুরু হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দেশসেরা ডিজে হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ভিজে (ভিডিও জকি) হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম ছিলেন তিনি। একই সাথে এদেশের একাধিক অনুষ্ঠান তার উপস্থাপনাতেই শুরু। গত কয়েকবছর ধরে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে ভাগ্যলক্ষী নামে একটি সিরিজ ডকুমেন্টারির কাজ করছেন। কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
উপস্থাপনা আপনারা যখন শুরু করেন তখন তো রেফারেন্স কম ছিল। কিভাবে নতুন ভাবনায় শুরু করলেন?
তা অবশ্য ঠিক যে রেফারেন্স কম ছিল। কিন্তু যারা ছিলেন তারা দেশবরেণ্য ছিলেন। তারা এখনও আইকন। আর আমাদের তারুন্যটাই নতুন ভাবনার কাজে সহযোগিতা করেছে।
এখন তো টিভি, ফেসবুক, ইউটিউব সবখানে উপস্থাপক। কীভাবে দেখেন এই বিষয়টা।
খুবই ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। চেষ্টা তো করছে সবাই। কারণ এটা মেধা চর্চার জায়গা। আপনাকে তাৎক্ষনিকভাবে সবকিছু ডেলিভারি করতে হবে। প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন রাখতে হবে। অনেককিছু জানতে হবে। সেক্ষেত্রে যারা পারবেনা, তারা এমনিতেই ঝরে যাবে। তাই সকলেই চেষ্টা করতে পারেন। টিকে থাকাটাই মূল বিষয়।
আপনারা যখন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ভিডিও জকির কনসেপ্টটা শুরু করেছিলেন। তখন কেমন লেগেছিল?
না এখানে ভুল আছে। আমরা ঠিক না। একজন ফরিদুর রেজা সাগর এবং একজন শাঈখ সিরাজ; তাদের ভাবনা থেকেই এগুলো শুরু হয়েছিল। আমরা সুযোগ পেয়েছি বলতে পারেন। তবে সেই সুযোগ পাওয়া আর টিকে থাকার সংগ্রামটাও খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল।
এখনকার অগনিত মাধ্যমে টিভি মিডিয়ামের অবস্থান প্রসঙ্গে আপনার সংজ্ঞা কী?
আমি সবসময় বলি। ইনফোটেইনমেন্ট ছাড়া কোনো টিভি আগামীতে কেউ দেখবে না। অর্থাৎ আপনার অনুষ্ঠান দর্শকের বিনোদন বা তার দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে একেবারেই অপরিহার্য হতে হবে। এর বাইরে আপনি এখন আর টিভি সেটের সামনে দর্শককে রাখতে পারবেন না। একেবারেই আপনার পরিবারের কমিউনিটিতে টিভির প্রয়োজনীয়তা ধরে রাখলেই সেটি সম্ভব।
দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে সারাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে আপনি কাজ করছেন। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন-
এটা আমার লীডার শাঈখ সিরাজ ভাইয়ের আইডিয়া। আমি কৃতজ্ঞ আমাকে এই সুযোগ দেবার জন্য। আমি মনে করি, আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় জার্নি এই অনুষ্ঠান। দেশের এত এত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সামনে যখন ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়াই। ওরা যে সাহসটা পায়, তার মূল্য অনেক। কারণ আমরা তো বড় বড় ব্যবসায়ীদের দিকে সারাদিন ক্যামেরা তাক করে থাকি। যাদের সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর অগনিত মানুষ রয়েছেন। কিন্তু এই ছোট ছোট করে স্বপ্ন দেখা উদ্যোক্তারা কিন্তু নিভৃতচারী।
আপনার উপলব্ধি শুনতে চাই-
আমার উপলব্দি না। বরং আমার গবেষণা বলতে পারেন। দেখুন দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ কুটির বা ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তার প্রায় ৭০ ভাগ কিন্তু নারী। তাই আগামীর উন্নত রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বা আমাদের অর্থনীতিতে এই নারীরাই ভূমিকা রাখবে এবং রাখছে। এই বিষয়টি আমি সারাদেশে ডোর টু ডোর গিয়ে বুঝেছি। এদেশে নারীরা সবক্ষেত্রে পরিশ্রমী। আমার অনুষ্ঠান বা ডকুমেন্টারীতে সেটিই বারবার প্রমান পেয়েছে।
অগনিত রিয়েলিটি শো, ইভেন্ট করেছেন। ইদানিং আপনাকে অন্যান্য অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় এখন কম পাওয়া যায়-
এর কারণ আমার এই উদ্যোক্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান। আমি সকল মনযোগ এখানে দিয়েছি। এর বাইরে কিছু বড় বড় ইভেন্ট করেছি। হয়ত সামনে আরো কিছু নতুন নতুন ভাবনায় আমাকে পাবেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ