চট্টগ্রামে পণ্যবাহী গাড়িতে অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি 

পণ্য পরিবহনের গাড়ি প্রতি প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া বেড়েছে। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামে বাড়তি ভাড়ায় পণ্যবাহী ট্রাক কাভার্ডভ্যান বুকিং হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগ্যপণ্যসহ সকল ধরনের পণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে। গাড়ি মালিকরা জানান, গণপরিবহনের মতো নির্ধারণ করে পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ করা যায় না। প্রতিদিনের চাহিদার ওপর গাড়ি ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকে। ধর্মঘটে পণ্য জটের কারণে গাড়ির চাহিদা বেশি থাকায় ভাড়াও বাড়তি ছিল।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্যবাহী গাড়ি দুই প্রক্রিয়ায় পণ্য পরিবহন করে থাকে। একটির ভাড়া দৈনিক নির্ধারণ হয় আর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বাড়িয়ে চুক্তি নবায়ন করতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ৫/৬ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে থাকেন। চট্টগ্রাম থেকে ৭-৮ হাজার গাড়ি পণ্য বোঝাই করে। চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে ১৬৫ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ে ১ হাজার ৯৮০ টাকা। কিন্তু প্রতি গাড়িতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। ধর্মঘটের পর মঙ্গলবার গাড়ির চাহিদাও বেশি থাকায় ভাড়া আদায়ে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ভাড়া স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। 

পরিবহন মালিক মোর্শেদ হোসেন বলেন, পরিবহন কয়েক দিন বন্ধ থাকায় পণ্যের জট লেগে গেছে। পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের দীর্ঘ লাইন পড়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে। তাই মঙ্গলবার গাড়ির চাহিদা বেশি ছিল। এ কারণে গাড়ি ভাড়া বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন গাড়ি প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, টেকনাফ ও বেনাপোল থেকে খাতুনগঞ্জে পণ্য আনা হয়। উভয় রুটে গাড়ি প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে পণ্যের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। পাহাড়তলী বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, নওগাঁ ও দিনাজপুর  থেকে চট্টগ্রামে চাল আনতে আগে ১৪-১৫ হাজার টাকা ভাড়া নেয়া হতো। মঙ্গলবার থেকে ১৮ হাজার টাকা পরিবহন ভাড়া নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিল মালিকরাও চালের বুকিং দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ির ধর্মঘটের প্রয়োজন ছিল না। কিছু নেতা অতি উৎসাহী হয়ে ধর্মঘট ডেকেছিলেন। এখানে সরকার ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে পারে না। পণ্যের মালিক ও পরিবহন মালিকের মধ্যে দর কষাকষির মাধ্যমে গাড়ির দৈনন্দিন ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকে। সম্পূর্ণ দৈনন্দিন চাহিদার ওপর ভাড়া নির্ধারণ হয় থাকে। বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি আবু মোজাফ্ফর বলেন, এখানে সরকারের ভাড়া নির্ধারণের কিছু নেই। গতকাল ৩০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় পণ্যবাহী গাড়ি বুকিং হয়।