১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীদের নিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা। বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা সুবিধাজনক স্থানে আছেন এমন কথা বলা যাচ্ছে না। এদিকে এলাকায় গত রাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর -
ঠাকুরগাঁও: ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা। বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীরা সুবিধাজনক স্থানে, এমনটি বলা যাচ্ছে না। কারণ বেশির ভাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগেরই লোকজন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কোথাও কোথাও নৌকার প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাউকে কাউকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা সমর্থন দিচ্ছেন। এতে সংঘর্ষ-সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে, আইনের ব্যত্যয় ঘটালে বা চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): দ্বিতীয় দফায় ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে হচ্ছে গোমস্তাপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও নারী আসনের সদস্যরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। গত নির্বাচনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগের সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে বিএনপিপন্থীরা দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। দুই ইউনিয়নের তিন জন সাধারণ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে পদক্ষেপ নিবেন বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান।
নাসিরনগরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ চেয়ারম্যান পদে ৬০ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৬৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৯৬ জন প্রার্থী ইউপি নির্বাচনে জয়ের আশায় আছেন। নির্বাচনি আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠেছে মাঠ ঘাট প্রান্তর। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ চষেবেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।
৭টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ, জাপা, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকায় সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বিএনপির কতিপয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে যাদের দলীয় পদবী রয়েছে সেসব প্রার্থীকে দল থেকে অব্যাহতিসহ বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন সমন্বয়কারী হালিমা খাতুন জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা।