দেশেই তৈরি হলো করোনার ওষুধ

করোনার চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল মলনুপিরাভির দেশেই তৈরি হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এই ওষুধটি ‘এমোরিভির ২০০’ নামে তৈরি করে গতকাল মঙ্গলবার থেকে বাজারজাত শুরু করেছে। দেশের স্থানীয় বাজারে করোনার ক্যাপসুল এখন পাওয়া যাচ্ছে। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরাট অবদান। করোনা পজিটিভ হলেই এটি সেবনযোগ্য। তবে গর্ভবতী ও ১৮ বছরের নিচের বয়সিরা এই ওষুধ খেতে পারবেন না। এই ওষুধটি মৃত্যুঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে দেয়। হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসায় বসে এই ওষুধ সেবন করে সুস্থ হওয়া যায়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অ্যান্টিভাইরাল ওরাল পিল ‘মলনুপিরাভির’ দেশে অনুমোদন পেলেও এটি টিকার বিকল্প নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এই ওষুধে কিছুটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ম মেনে ওষুধটি সেবন করতে হবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করোনার রোগীদের জন্য এই ওষুধটি খুবই কার্যকর।

দেশের তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই মলনুপিরাভির উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন এরই মধ্যে দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার ওষুধটির জরুরি ব্যবহার ও উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘কোভিডের চিকিৎসায় জরুরি ব্যবহারের জন্য অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে মুখে খাওয়ার ওষুধ মলনুপিরাভিরকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান এই ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করার আবেদন করেছিল। বেক্সিমকো, স্কয়ার ও এসকেএফকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা, হেলথকেয়ার, দি একমি, পপুলার, বিকন, রেনাটা ও জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এর আগে মলনুপিরাভিরকে রোগীদের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। মলনুপিরাভির একটি ট্যাবলেট বা বড়ি। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এই ওষুধটি দিনে দুইবার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদেরকে (ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগ, বাইপাসসহ জটিল রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে) দেওয়া হয়। মূলত এই ওষুধ ফ্লু-এর চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুযায়ী, এই ওষুধ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে দেয়। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এটাই প্রথম ওষুধ, যেটি শিরায় প্রয়োগ নয় বরং মুখে সেবন করা হবে। 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক, শার্প অ্যান্ড ডোম (এমএসডি) এবং রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিকসের তৈরি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এটিই মুখে খাওয়ার প্রথম ওষুধ। প্রতিদিন দুই বেলা চারটি করে আটটি ক্যাপসুল খেতে হবে। এই ওষুধের কোর্স চলবে পাঁচ দিন। ৮০০ মিলিগ্রামের ‘এমোরিভির’ ওষুধ হলে দিনে দুই বার। পাঁচ দিন খেতে হবে। 

মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সোসাইটি অব মেডিসিনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনার ওষুধ তৈরি হয়েছে। এটি খুবই ভালো খবর। চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুখবর। তবে এটি টিকার বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না। যারা আক্রান্ত হবে তাদেরই করোনার ওষুধ খেতে হবে। জ্বর, সর্দি-কাশি হলেই করোনার ওষুধ খাওয়া যাবে না। কোভিড পজিটিভ নিশ্চিত হয়েই ওষুধটি খাওয়া হবে। এছাড়া ১৮ বছরের নিচের কাউকে মলনুপিরাভির ওষুধ খাওয়ানো নিষেধ। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের এই ওষুধ সেবন করা যাবে না। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনার ওষুধটি সেফটি ড্রাগ। কিছুটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনেই খেতে হবে। দেশের অনেকেই টিকার বাইরে আছে। তারা যদি করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে তাদের জন্য এই ওষুধটি খুবই উপকার। 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মলনুপিরাভির অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেট, তবে  টিকার বিকল্প নয়। টিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শেই জরুরিভাবে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। তবে  কোনোভাবেই ১৮ বছরের নিচে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এই প্রথম মুখে খাওয়ার কোনো অ্যান্টিভাইরাল আমাদের দেশে এলো। সোমবার আমরা বেক্সিমকোকে এবং মঙ্গলবার স্কয়ার ও এসকেএফকে ইমার্জেন্সি ইউজ এবং মার্কেটিং অথরাইজেশন দিয়েছি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন আমরা মূল্যায়ন করছি তারাও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাবে।