অ্যান্টার্কটিকার প্রাকৃতিক আবাস থেকে এক পেঙ্গুইন তিন হাজার কিলোমিটার দূরে নিউজিল্যান্ডে এসে পৌঁছেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
জানা যায়, অ্যাডেলি জাতের ওই পেঙ্গুইনটিকে নিউজিল্যান্ড উপকূলে একা ঘুরে বেড়াতে দেখ গেছে। পরে হ্যারি সিং নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সেটিকে উদ্ধার করেন।
তিনি জানান, প্রথমে পেঙ্গুইনটিকে খেলনা বলে মনে করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের উপকূলে অ্যাডেলি পেঙ্গুইন পাওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যারি সিং এবং তার স্ত্রী সমুদ্র সৈকতে দিনের কাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়ে প্রথম পেঙ্গুইনটির দেখতে পান। প্রথমে হ্যারি ভেবেছিলেন এটি একটি নরম খেলনা, হঠাৎ পেঙ্গুইনটি তার মাথা নাড়াল। তখন তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এটি কোনো খেলনা নয় জীবিত প্রাণী।
হ্যারি সিং বলেন, পেঙ্গুইনটি কোনো নড়াচড়া করছিলো না। শুধু তাকিয়ে ছিলো। পরে উদ্ধারকারীদের ডাকা হয়। কারণ পেঙ্গুইনটি পানিতে নামছে না, যার ফলে এটি সমুদ্র সৈকতে ঘোরাফেরা করা অন্যান্য শিকারী প্রাণীদের জন্য একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।
পরে থমাস স্ট্র্যাক নামক এক পশুচিকিৎসক পেঙ্গুইনটিকে উদ্ধার করেন। পরে জানা যায়, রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে প্রাণীটির ওজন কিছুটা কম এবং পানিশূন্যতায় ভুগছিল। তারপর থেকে তাকে তরল খাবার ও একটি ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো হয়েছে। পরে ব্যাঙ্কস উপদ্বীপের একটি নিরাপদ সমুদ্র সৈকতে ছেড়ে দেওয়া হবে, যেটি কুকুর মুক্ত।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ এবং ১৯৬২ সালের দুটি পেঙ্গুইন উদ্ধারের পর নিউজিল্যান্ডের উপকূলে এটি অ্যাডেলি পেঙ্গুইন পাওয়া যাওয়ার ইতিহাসের তৃতীয় উদাহরণ। অ্যাডেলি পাওয়া নিউজিল্যান্ডে বিরল, তবে ভবিষ্যতে যদি তাদের আরো বেশি দেখা যায় তবে এটি একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।