শ্যামল বরণ মেয়ের রূপচর্চা 

এদেশে শুধু নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশেই ফর্সা রমনীদের কদর বেশি। তাই বলে শ্যামল বরণ নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই। পাশাপাশি পোশাকের রঙ নির্বাচনে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ারও দরকার নেই। শ্যামল বরণ কন্যার মায়াকারা চেহারায় কতশত তরুণ নিজের স্বপ্নের প্রাসাদ গড়ে তোলেছেন তারও কোনো হিসাব নেই। রূপে-রঙে নিজেকে মেলে ধরতে প্রয়োজন শুধু আত্মবিশ্বাস। 

শ্যামল বরণ কন্যার মায়াকারা চেহারায় কতশত তরুণ নিজের স্বপ্নের প্রাসাদ গড়ে তোলেছেন তার কোনো হিসাব নেই

শ্যামলা ত্বকের সঙ্গে মানানসই রঙ পছন্দ করে পোশাক নির্বাচন ও মেকআপ করলে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় দেখায়। একটি বিষয় হয়তো অনেকেরই অজানা, তা হলো ফর্সা ত্বকের চেয়ে কালো ত্বক অনেক বেশি সুস্থ থাকে। কারণ কালো ত্বকে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি খুব একটা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই ত্বক ফর্সা বা কালো সেটা মুখ্য নয় বরং সুস্থ, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও লাবণ্যতাই আসল সৌন্দর্য।

শ্যামলা ত্বকের সঙ্গে মানানসই রঙ পছন্দ করে পোশাক নির্বাচন ও মেকআপ করলে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় দেখায়

কালো ত্বকের মেয়েদের মেকআপ করার আগে ত্বকের ধরণ ও শেড ঠিক করে নিতে হবে। ত্বকের সঙ্গে মানানসই এবং ন্যাচারাল শেড ব্যবহার করে নিজেকে সাজিয়ে তোলতে পারেন পরিপাটি করে। এক্ষেত্রে ত্বকের রঙয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ত্বক সুস্থ আছে কিনা। কারণ সুস্থ ত্বকে মেকআপ করলে সে ত্বক আরো সুন্দর হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বেসিক কিছু টিপস-

ত্বক ফর্সা বা কালো সেটা মুখ্য নয়, বরং সুস্থ, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও লাবণ্যতাই আসল সৌন্দর্য

  • যেকোনো ত্বকে মেকআপের প্রথম ধাপ হচ্ছে ফাউন্ডেশন। প্রথমে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ক্লিনজিং, টোনিং বা ময়েশ্চারাইজার লাগান। তারপর ত্বকের ধরণ ও রঙ অনুযায়ি ভালো ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন দিয়ে বেইজ তৈরি করে নিন। যদি ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে শেড ব্যবহার করতে হয় তাহলে স্কিনের চেয়ে হালকা ও ন্যাচারাল শেড ব্যবহার করুন। এরপর মেকআপ পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। পাউডার ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করে উজ্জ্বলতা ফুটিয়ে তোলে।

কালো ত্বকের মেয়েদের মেকআপ করার আগে ত্বকের ধরণ ও শেড ঠিক করে নিতে হবে

  • সুন্দর করে চোখ সাজালে মেকআপ অনেক বেশি পরিপাটি মনে হয়। চোখ সাজানোর সময় তৈলাক্ত ও উজ্জ্বল রঙের শেডও দেখতে ভালো লাগে। সন্ধ্যার কোনো পার্টিতে সাজের ক্ষেত্রে প্রথমে চোখের পাতায় হালকা করে পাউডার পাফ বুলিয়ে নেবেন। এর ফলে আইশ্যাডো ব্যবহারে চোখ অনেক বেশি উজ্জ্বল লাগবে। দিনের বেলা চিকন করে ধূসর বা বাদামি আই লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। ভালো হয় যদি চোখের নিচে লাইনার ব্যবহার না করেন। সবশেষে আইলেশ কিংবা মাশকারা ব্যবহার করে চোখের সাজ পূর্ণ করে নিন।

শ্যামল বরণ নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই। পাশাপাশি পোশাকের রঙ নির্বাচনে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ারও দরকার নেই

  • মেকআপে ব্লাসন ব্যবহারের সময় শেড নির্বাচনে সতর্ক থাকবেন। এক্ষেত্রে আপনি বাদামি শেড ব্যবহার না করে গোলাপি, গাঢ় কমলা ব্যবহার করতে পারেন। কৃষ্ণবর্ণের যারা তারা দিনের সাজে গাঢ় গোলাপি এবং রাতের জন্য তামাটে রঙ ব্যবহার করতে পারেন। এর সঙ্গে গোল্ডেন কালারও ব্যবহার করতে পারেন। তবে কপাল এবং আইব্রোর কোণা হালকা করে গোল্ডেন রঙ ব্যবহার করুন। এতে সাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

সুন্দর করে চোখ সাজালে মেকআপ অনেক বেশি পরিপাটি মনে হয়। চোখ সাজানোর সময় তৈলাক্ত ও উজ্জ্বল রঙের শেডও দেখতে ভালো লাগে

  • লিপস্টিক ব্যবহারের সময় লিক্যুইড লিপস্টিক ব্যবহার না করে বরং ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। বাদামি, বেগুনি, হালকা গোলাপি, গোল্ডেন, কফি, চকলেট শেড বা অন্য যেকোনো হালকা রঙ ব্যবহার করুন। তবে গাঢ় গোলাপি, মেজেন্টা, লাল, কমলা এসব রঙ এড়িয়ে চলাই ভালো।