বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা। তবে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেই শিশু ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে, সঠিক চিকিত্সা পেলে ক্যান্সার থেকে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সারের মূল কারণ জিনগত পরিবর্তন। এ ছাড়া ভেজাল খাদ্য, খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার, বায়ু দূষণ ও বিকিরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শিশুদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর ১৩ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, যা দেশের মোট ক্যান্সার রোগীর চার শতাংশ।
ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ডহুড ক্যান্সারের (আইসিসি) এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার শিশু ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। এসব আক্রান্ত রোগীর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ থাকছে চিকিত্সার বাইরে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রকৃত ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি। কারণ আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে আসে না। অনেকে শেষ সময়ে হাসপাতালে এলেও যথাযথ চিকিত্সা পায় না। তাই কত শিশু এ পর্যন্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ও মৃত্যুবরণ করছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলছেন, দেশে ক্যান্সার চিকিত্সক কম থাকায় বিদেশে চিকিত্সার প্রবণতা বাড়ছে। শিশু ক্যান্সার ভালো হয়। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। শিশুদের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, তবে ধৈর্য ধরে চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। দেশের অনেক হাসপাতালে এখন শিশু ক্যান্সারের চিকিত্সা হচ্ছে। পরিবেশগত কারণে দেশে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তবে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে শিশুদের জীবন বাঁচানো সম্ভব।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ খসরু বলেন, শিশু ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পরলে, সঠিক চিকিত্সা পেলে ক্যান্সার থেকে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু অনকোলজি বিভাগ চালু হওয়ার পর থেকে চিকিত্সা নিয়ে ২৫০ শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা হলো- মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে চিকিত্সা নিতে এসে প্রায় ৪৫ ভাগ রোগী ঝরে পড়ে। আর এর কারণ মূলত অর্থনৈতিক এবং সেবাদানকারী জনসংখ্যার অভাব। রক্তদাতা খুঁজে বের করাও তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অধিকাংশ রক্তদাতা বিশ্বাস করেন ক্যান্সার ভালো হয় না।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জী বলেন, শিশু ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, সময়টা কেবল ধৈর্য ধরে পার করতে হবে। দেশের অনেক হাসপাতালে এখন শিশু ক্যান্সারের চিকিত্সা হয়।
ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. এ এফ এম কামালউদ্দিন বলেন, সচেতনতার অভাবে দিন দিন ক্যান্সার রোগী বাড়ছে। সে তুলনায় ক্যান্সারের চিকিত্সক কম। এ কারণে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হয় চিকিত্সকদের। ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন। তিনি বলেন, ক্যান্সার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। চিকিত্সা বিজ্ঞান অনুযায়ী ক্যান্সারের চিকিত্সা সব দেশে একই। বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের চিকিত্সকরা একই নিয়ম অনুসরণ করেন। রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে নবীন চিকিত্সকদের পরামর্শ দেন এই চিকিত্সক।