নিপাহ্ ভাইরাসে উনিশ বছরে প্রাণ ঝরেছে ২১১

খেজুরের রস কাঁচা নয়, ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

খেজুর রস পানেই নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের প্রধান কারণ। তাই খেজুর রস ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেছেন, দেশে ১৯ বছরে নিপাহ্ ভাইরাসে মারা গেছেন ২১২ জন। আর এই সময়ের মধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩০৬ জন। এটি একটি প্রাণিবাহিত রোগ, যা বাঁদুর থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। দেশে এই রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ খেজুরের রস পানে।   

গতকাল মঙ্গলবার মহাখালীর ‘আইইডিসিআর’ মিলনায়তনে ‘নিপাহ্ রোগ বিস্তাররোধে গণসচেতনতা: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ পর্যন্ত ৩০৬ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে এ বছর ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন একজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিপাহ্ ভাইরাস এখনও শুধু কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার মাধ্যমেই হচ্ছে। তাই খেজুরের রস ফুটিয়ে খেতে হবে।

নিপাহ ভাইরাসের সংক্ষিপ্ত ইহিতাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এই রোগ প্রথম দেখা দেয় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও এর প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়। সেখানে আক্রান্ত ৬৬ জন রোগীর মধ্যে ৪৫জনই মারা যায়। বাংলাদেশে প্রথম এই রোগের তথ্য পাওয়া যায় ২০০১ সালে। তবে তা শনাক্ত হয় ২০০৪ সালে। তখন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিবছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের এবং মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা পালন করতে হবে।      

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ‘আইইডিসিআর’এর ডা. এএমএম আলমগীর, আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্টার শিশির মোড়ল, তৌফিক মারুফ, জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলসহ আরো অনেকে।