১৯৯১ সালের ২২ নভেম্বর। বলিউডে আগমন হয় নতুন এক হিরোর। তথাকথিত নায়কসুলভ চেহারা ছিলো না তার। সেসময়ের চকলেট বয় সালমান, আমির, অক্ষয়ের তুলনায় আহামরি সুবিধাজনক নয়। রোগা-পাতলা গড়নের শ্যাম বর্ণের ছিলো ছেলেটা। তবে অভিনয়ে আসার কথা কোনদিনই ভাবেনি সে। সেসময় ছেলেটা কলেজে পড়তো। সারাদিন হৈহুল্লোড় করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিতো। একদিন কলেজ থেকে ফিরলে বাবার ডাক পড়লো। সামনে পরিচালক কুকু কোহলি বসা। পরিচালক বললো এই ছেলেকে আমি সিনেমায় নিবো। বাবাও বললেন কাল থেকে শ্যুটিং এ যাও। ব্যস এভাবেই তার সিনেমায় আগমন। দেখতে দেখতে সিনেমার শ্যুটিং শেষ হলো।
তবে তার ক্যারিয়ার শুরুর আগেই বড় এক হুমকির সম্মুখীন হলো। তৎকালীন সুপারস্টার অনীল কাপুর ও শ্রীদেবী অভিনীত ও ইয়াশ চোপড়া পরিচালিত 'লামহে' সিনেমার সাথে ক্ল্যাশে তার সিনেমা মুক্তি পাবে। মুভি রিলিজের আগে কেউ তাকে পাত্তাই দেয়নি। এমনি নতুন হিরো, তারপর তারকাবহুল সিনেমার সাথে মুখোমুখি ক্ল্যাশ। তবে সবাই কে অবাক করে দিয়ে তার সিনেমা লমহে কে বড় ব্যবধানে হারায় ও সেই বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাতে পরিণত হয়৷ তবে সমালোচনা থামার নাম নেই। সামনে সবাই ভালো কথা বললেও পিছনে চলে সমালোচনা।
সবকিছু উপেক্ষা করে ছেলেটা আবার সিনেমায় মন দেয়। প্রথম দিকে বেশ কিছু সিনেমা বাবা ও ভাইয়ের সাথে করেন। ৯০ এর দশকে তার বেশির ভাগ সিনেমাই ছিলো এ্যাকশন, রোমান্স, ফ্যামিলি ড্রামা জনরার। ৯০ দশকে ৩৩ টি সিনেমার মধ্যে তিনি প্রায় ১৫ টির মতো ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেন।
শূন্যের দশকে মূলত তিনি এক্সপিরিমেন্ট করতে শুরু করেন। আর একে একে তৈরি হতে থাকে কোম্পানি, দ্য লিজেন্ড অব ভাগাত সিং, দিওয়ানগি, গঙ্গাজল, কিয়ামত, রেইনকোট, জামিন, এল ও সি কারগিল, খাকি, য়ুভা, ব্ল্যাকমেইল, কাল, ওমকারা, গোলমাল এর মতো সিনেমা। বক্স অফিসের হিসাবে এই দশকটা তার জন্য খুব সুবিধার ছিলো না। ৩৯ টি সিনেমার মধ্যে ব্যবসা সফল মোটে ১১ টি। পরর্বতী দশকটা তিনি একাধারে প্রায় সকল ধরনের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। গত দশকে তার ২৪ টি সিনেমার মধ্যে ১৪ টি ব্যবসাসফল।
তিনি বিজয় সারগালের মতো বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, করেছেন সিংহামের মত পুলিশ চরিত্রে,করছেন রেইড, দে দে প্যায়ার দে, তানহাজির মত সিনেমা করেছেন।
এতোক্ষণ বলছিলাম অজয় দেবগানের কথা। গত দশকে তিনিও অক্ষয়ের মত ভালো সময় কাটিয়েছেন। হাইয়েস্ট গ্রোসার অব দ্য ইয়ার ও দিয়েছেন। অজয় বরাবরই সাইলেন্ট কিলার। নিজের প্রচারণা কম করেন, পি আর টিম কম ব্যবহার করেন। বিভিন্ন এওয়ার্ড ফাংশানে নাচা-গানা করতেও দেখা যায় না। বলিউডের বাকি টপ ৫ অভিনেতার চেয়ে তার স্টারডম কম। বাংলাদেশে তার ডাই হার্ড ফ্যানের সংখ্যাও নেই বললে চলে।
বলিউডের টপ ৬ অভিনেতার মধ্যে একমাত্র তিনিই ২ বার ন্যাশনাল এওর্য়াড জয় করেছেন। বলিউডের টপ ৬ অভিনেতার মধ্যে একমাত্র তিনিই কমেডি জনরা তে ব্লকবাস্টার স্কোর করেছেন তাও আবার ২টি। কে ই বা জানতো ৩০ বছর আগের সেই শ্যাম বর্ণের রোগা-পাতলা ছেলেটি আজকে নিজিকে বলিউডের ইতিহাসের সেরা অভিনেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। তার সামনেও রয়েছে একগাদা সিনেমা।
এদিকে অজয়ের এত বছরের কাজকে অভিনন্দন জানালেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। অজয়কে অতীত থেকে বর্তমান ফিরে দেখলেন ‘বিগ বি’। ফেসবুকে ‘বিগ বি’ লিখলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে ৩০ বছর পূর্ণ করলেন অজয় দেবগণ। ১৯৯১ সালে এই দিনেই তাঁর প্রথম ছবি ‘ফুল অউর কাঁটে’ মুক্তি পেয়েছিল। ও খুবই মৃদুভাষী, নিজের কাজ নিয়ে থাকে, কাজের প্রতি ভালবাসা আছে। ‘শান্ত অজয়কে প্রথম ওর বাবার বীরু দেবগণের সঙ্গে প্রথম দেখেছিলাম। আমার ছবিতে তিনি স্টান্ট শেখাতে আসতেন। আজ সেই অজয় একজন প্রযোজক, পরিচালক এবং আমার প্রতিবেশী।’ ওকে শুভেচ্ছা জানাই। অজয়, আরও ৭০ বছর এ ভাবেই কাজ করে যাও।’
অমিতাভের অভিনন্দন অজয়ের চোখ এড়িয়ে যায়নি। প্রবীণ অভিনেতার উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ স্যর।’