বনে আগুন দেওয়া বন্ধ করতে হবে

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভাওয়াল গড়ের ভবানিপুরের গহীন বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত্ দেখলাম বন-কর্মীরা খুব দৌড়াদৌড়ি করছেন। একজন দেখলাম বনের আগাছা উঠিয়ে দৌড়ে গিয়ে গজারি বনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালাম। বনের আগুন নেভানোর পর তাঁদের সঙ্গে কথা হলো এই বিষয়ে। তাঁদের আগুন নেভানোর আন্তরিকতায় মনে হলো এঁদের মতো মানুষের জন্যেই আমরা সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।

গত শুক্রবারেও হোতাপাড়া থেকে আসার সময় ভেরামতলীর একটি জায়গায় শাল গজারির গহীন বনে আগুন লাগা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আসলে গহীন বনে কিছু অসাধু মানুষ এই কাজ করে। বন-কর্মীরা রাস্তার ভেতর চেক দিয়ে যাওয়ার সময় যদি এরকম কিছু দেখেন সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা নেভান—এমনটাই বলছিলেন আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণকারী দুই বনমালী। তাঁরা বলেন—আগুন লাগানো বন্ধ করতে মাইকিংও করা হয়ে থাকে। কিন্তু আগুন লাগানো বন্ধ হচ্ছে না। আর আগুন দিলে পুড়তে থাকে বনের মাটি, গজারিসহ সকল গাছের শেকড়, পোকা-মাকড়! নষ্ট হয়ে যায় ঐ অংশের পুরো জীববৈচিত্র্য!

বনে আগুন দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে মানুষকে জানাতে হবে। বিট অফিস প্রয়োজনে বনের মধ্যে আরো বাড়াতে হবে অথবা বন-কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে বনের রক্ষণাবেক্ষণ বাড়াতে হবে। শাল গজারির বন রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা আশা করছি। অক্সিজেন ফ্যাক্টরি হলো এই শাল গজারির বন। পরিবেশ বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে বলে আশা করছি।

সাঈদ চৌধুরী, শ্রীপুর, গাজীপুর