বলটা বৈধ ছিল কি

জয়ের জন্য পাকিস্তানের এক বলে প্রয়োজন ২ রান। নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ নেওয়াজ এসে গার্ড নিলেন। রান আপ শেষ করে বল ছুড়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু মাথা তুলে দাঁড়িয়েই বলটা ছেড়ে দেন নেওয়াজ। বলও স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। আউটের আবেদনও করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটার না খেলায় আম্পয়ার বলটা ডেড ঘোষণা করেন।

এমনকি মাহমুদউল্লাহ বিষয়টা নিয়ে নেওয়াজের সঙ্গে, আম্পয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। নুরুল হাসান সোহানকেও দেখা গেছে কথা বলতে। শেষ পর্যন্ত হয়তো নেওয়াজের উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

কিন্তু সেখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ম্যাচ শেষে সবার মনেই প্রশ্ন জেগেছে বলটা কি বৈধ ছিল? নাকি ডেড ঘোষণা করাই যথার্থ ছিল। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, বলটা উইকেটে পড়ার পরই ব্যাট তুলে নেন নেওয়াজ। অপ্রস্তুত থাকার ভঙ্গিই করেছেন তিনি। কিন্তু বলটা যে নেওয়াজের পক্ষে অসম্ভব ছিল, রিপ্লে দেখে এমনটা মনে হয়নি।

জয়ের পর পাকিস্তানের অপরাজিত দুই ব্যাটার, অপর প্রান্তে হতাশ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

সোমবার (২২ নভেম্বর) মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচের শেষ ওভারে হয়েছে চরম নাটকীয়তা। হারের মিছিলে থাকা বাংলাদেশের জয়ের একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মাহমুদউল্লাহ ওই ওভারে তিন উইকেট তুলে নিলেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। শেষ বলে চার মেরে পাকিস্তানকে জয় এনে দেন নেওয়াজ। হারের ভারে ভারাক্রান্ত টাইগাররা পেলো না জয়ের স্বস্তি। টানা তিন ম্যাচ হেরে সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে ওই বলের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমি শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম, ও অনেক শেষ মুহূর্তে সরে গেছে। এই কারণেই জিজ্ঞেস করছিলাম যে এটা বৈধ বল কি না? স্রেফ জিজ্ঞেস করছিলাম, এর বাইরে কিছু না।’ তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিই সম্মান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘আম্পায়ার’স কল ইজ ফাইনাল এবং আমরা আম্পায়ারদের সম্মান করি।’

ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর অপেক্ষাকৃত তরুণ দল নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু হারের বৃত্ত ভাঙা সম্ভব হয়নি। মাহমুদউল্লাহও আক্ষেপে পুড়লেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, যদি দু-একটি ম্যাচ জেতা যেত, দলের আত্মবিশ্বাস আরও ভালো থাকতো। যেরকম আমাদের ড্রেসিং রুমটা অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় খুব উৎফুল্ল ছিল। অবশ্যই ম্যাচ হারলে সব টিমমেটের খারাপ লাগে। অনেক সংশয় সৃষ্টি হয়। তবে ছেলেরা অনেক কষ্ট করেছে সবাই। চেষ্টা করেছে জানপ্রাণ দিয়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফল আমাদের পক্ষে আসেনি।’

ফলাফল পক্ষে না আসলেও তরুণদের পাশে থাকছেন অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘অনেক নতুন ছেলে ছিল, যাদের অভিষেক হয়েছে। সাইফের অভিষেক হয়েছে। শহিদুলের অভিষেক হয়েছে। তরুণদের ছাপ রাখার জন্য ভালো সুযোগ ছিল এটি। তবে সম্ভবত কিছুটা সময় তাদের দরকার। কারণ টি-২০ ফরম্যাট এতটা সহজ নয়। বিশেষ করে তরুণদের জন্য।’

ইত্তেফাক/টিএ