ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার বইয়ের ধারণ ক্ষমতা, পাঠকসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের দিক দিয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অত্যাধুনিক। গ্রন্থাগারটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের ছাত্রছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত। বৈধ গ্রন্থাগার কার্ডধারীদের জন্য প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে বহিরাগত ও সাবেক ছাত্রছাত্রীদের অবাধ প্রবেশের দরুন অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুবিধা থেকে প্রায়শই বঞ্চিত হচ্ছে। সাবেক শিক্ষার্থীরা কত বছর পর্যন্ত গ্রন্থাগার সুবিধা ভোগ করতে পারবে তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব হেতু গ্রন্থাগারের নিয়মিত সদস্যদের সিংহভাগই সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অত্যন্ত আরামদায়ক কক্ষে নীরব পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ থেকেই মূলত বহিরাগতদের এখানে আগমন ঘটে। ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড দ্বারা প্রবেশের জন্য গ্রন্থাগারটির প্রধান ফটকে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক প্রবেশপথ থাকলেও ডিজিটাল কার্ডের প্রচলন এখনো হয়নি। এমনকি ব্যাপকার্থে সাধারণ লাইব্রেরি কার্ডের ব্যবহার নেই বললেও অত্যুক্তি হয় না—এটা বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের পথকে সহজ করেছে। গ্রন্থাগারের একটি সিট পাওয়ার জন্য গ্রন্থাগার খোলার আগেই ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই বইয়ের ব্যাগ রেখে আসতে দেখা যায়। গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ানো, ঘেঁষাঘেঁষির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু ও যুগ অনুপযোগী। সকাল ৮টায় গ্রন্থাগার খোলার পর গ্রন্থাগারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হট্টগোল, গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আরেক দৃশ্যের দেখা মেলে—এক এক জনের একাধিক সিট দখল। এজন্য একঘণ্টা আগে এসে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীও প্রায়ই সিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও জ্ঞানচর্চার আগ্রহের এরূপ নজির দেখে পুলকিত হতে হয়, তবু অবশ্যই এই দুর্ভোগের নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
মো. আমিনুর রহমান
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়