অভিযানের মধ্যেই যুগ্ম পরিচালক প্রত্যাহার

রাজধানীর নদ-নদী দখলমুক্ত করতে চলমান উচ্ছেদ অভিযান প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বসিলা এলাকায় বুড়িগঙ্গা-তুরাগে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালেই ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রভাবশালীদের বাধা উপেক্ষা করে অভিযান চালানোর কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদিও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে লাবু নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

গত কয়েকদিন ধরে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তুরাগ নদ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্বত:স্ফূর্তভাবে চললেও তুরাগ চ্যানেল উদ্ধারে গতকালের অভিযান বারবারই থেমে যাচ্ছিল বাধার মুখে।              সকালে জরিপ শুরু করার পর প্রায় ২৫০ ফুট প্রস্থের একটি অংশের সীমানা নির্ধারণ করে অভিযানকারী দল। সকাল থেকে অপেক্ষার চার ঘণ্টা পর দখলকৃত অংশের কিছু স্থাপনা ভাঙা হয়। এরপর চ্যানেলের মুখ খননের কাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যেও দুই দফা খনন কাজ বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়। এরপর বন্দরের যুগ্ম পরিচালককে প্রত্যাহারের পর কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।

এদিকে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর বসিলা অংশে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তালুকদার লাবুকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ’র চালানো একটি খাল উদ্ধার অভিযানে বাধা দেওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছিল। মুচলেকা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা লাবুকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। লাবু নিজেকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষমা চাওয়া ও ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাবু উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার সময় পাঁচ-ছয়টি মোটরসাইকেলে বসা কয়েকজন যুবক আমিন মোমিন হাউজিংয়ের গেটে অবস্থান করছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে লাবুকে আটক করা হলে অন্য যুবকরা তখন সরে যায়।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সকাল ১০টার দিকে বসিলা ব্রিজের উত্তর অংশে এই অভিযান শুরু হয়। কয়েকটি আধা-পাকা বাড়ি ও টং ঘর ভাঙা হয়েছে। এর আগে সোমবার বসিলায় ১২০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটি চারতলা ভবন, আটটি তিনতলা ভবন, ১১টি দোতলা ভবন এবং ৪২টি একতলা ভবন রয়েছে। এছাড়া ৩৩টি আধাপাকা এবং ২৫টি টং ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে তিন দফায় নয় দিন অভিযান চালিয়ে বুড়িগঙ্গা তীরের প্রায় পনেরশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ।