করোনা ভাইরাসের ধাক্কা, বাজে ফরম মিলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রটা সুখকর ছিল না বাংলাদেশের জন্য। ২০১৯-২১ চক্রে একটি ড্র ছাড়া কিছুই প্রাপ্তি ছিল না পয়েন্ট তালিকার তলানির দল বাংলাদেশের। আজ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় চক্রের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে টাইগাররা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১০টায়।
অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেও পারেন মুমিনুল হক। ২০১৯ সালে সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় হুট করে অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। তারপর পূর্ণ শক্তির দলটা খুব কম সময় পেয়েছেন তিনি। ইনজুরি, বিশ্রাম মিলে সিনিয়রদের নিয়মিত পাননি তিনি। এবার দ্বিতীয় চক্রের শুরুতেও পাচ্ছেন না দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটারকে। ইনজুরির কারণে সাকিব, তামিম, তাসকিন নেই দলে। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় চক্রের শুরুতে তাই অনেক চ্যালেঞ্জ মুমিনুল বাহিনীর সামনে।
সাদা পোশাকে বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান অনেক শক্তিশালী দল। দুই দলের ১১ ম্যাচের ১০টি জিতেছেন তারা। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, ২০১৫ সালে খুলনায়। টি-২০ সিরিজ জিতে চাঙ্গা পাকিস্তানকেই আজকের ম্যাচে এগিয়ে রাখছেন মুমিনুল। সিনিয়ররা না থাকলেও তরুণদের জন্য ভালো সুযোগ দেখছেন অধিনায়ক।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেছেন, ‘নতুন চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে, দলটা তরুণ। অধিনায়ক হিসেবে কাজটা কঠিন। টেস্টে সবসময় সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রয়োজন হয়। চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। তবে নতুন যারা আছে, তাদের জন্য দারুণ সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার।’
সিনিয়রদের অভাব পূরণে মুশফিক এবং নিজেকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন মুমিনুল। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য কঠিন হবে। চ্যালেঞ্জিং হবে। হয়তো আমার, মুশফিক ভাইদের একটু বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।’
নানামুখি চ্যালেঞ্জ থাকলেও জয়ের লক্ষ্য থেকে পিছু হাঁটছেন না মুমিনুল। ঘরের মাঠে দলীয়ভাবে পারফরম করলে নিজেদের সুযোগ দেখছেন তিনি। আগামী কয়েক সিরিজে টেস্টে দলের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে যাবে মনে করেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
প্রথম চক্রে তলানিতে, দ্বিতীয় চক্রে কয়েক ধাপ উন্নতির আশা করছেন মুমিনুল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এখন যে জায়গায় আছি আমরা, টেস্ট চ্যাম্পিয়ন যখন শেষ হবে, তখন এখান থেকে দুই-তিন ধাপ ওপরে উঠতে পারলে আমি খুশি।’