দীর্ঘ যুদ্ধের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর দেশটির ক্ষমতায় বসে তালেবান গোষ্ঠী। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে কোনো স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি দেশটি। উল্টো চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে আফগান নাগরিকরা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনায় তালেবানের অযোগ্যতার বিষয়টি সবার সামনে চলে আসছে বলে মনে করেন ফরাসী গবেষক এডাম বাচকজো। তিনি বলেন, সংকটের দিকে এগোচ্ছে তালেবান। কারণ গোষ্ঠীটির আদর্শিক জায়গা থেকে যেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে ধ্বংসের দিকেই এগোচ্ছে আফগানিস্তান। এরসঙ্গে মানবিক সংকটের বিষয়টি তো আছেই।
তিনি আরও বলেন, নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার কারণে অনেক পরিবারই অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বিপদে ফেলবে আফগানীদের। দেশ পরিচালনায় অদক্ষ তালেবানের অন্যতম ভুল এটি।
সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিভিশনে নারীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। এমনকি যেসব বিজ্ঞাপনে নারীদের দেখানো হয়েছে সেসব প্রচারণাও নিষিদ্ধ। সেই ঘোষণায় গণমাধ্যমে কর্মরত নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের কথাও বলে হয়েছে।
গত কয়েক মাসে তালেবানের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, ৯০ এর দশকে ক্ষমতায় আসার পর যেসব নিয়ম তারা জারি করেছিলো, সেসব তারা পুনরায় কার্যকর করতে শুরু করেছে। এডাম বাচকজোর মতে, তালেবান নেতৃত্ব কোনো চাপে ভীত নয়। মনে হচ্ছে যে করেই হোক তারা তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। ক্ষমতা গ্রহণের ৪ মাসের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ডে সংকটে আফগানিস্তানের মানুষ। এরকম চলতে থাকলে দেশটির মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষারত। তাই তালেবানের উচিত শাসন ব্যবসস্থায় পরিবর্তন আনা।