ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ইটভাটায় অভিযান কোটি টাকা জরিমানা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকায় বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুই বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মোবাইল কোর্ট গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দূষণ যাতে সৃষ্টি করা না হয় সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে আদালতে এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)।

অধিদপ্তরের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস হতে এ পর্যন্ত ৩২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে অবৈধভাবে নির্মিত ৩৭টি ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যতীত এসব ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ২০১৩ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণের জন্য রাজধানীর চারপাশে অবস্থিত ইটভাটাগুলো দায়ী। প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ৫ মার্চ এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন। এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ধুলার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে সড়কে পানি ছিটানো হচ্ছে। আদালত বলেন, মশার উপদ্রবে নগরবাসী নাজেহাল। মশা নিধনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু মশা নিধন পুরোপুরি হয় না। এটা কেন?

প্রসঙ্গত, এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ধুলার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে সকাল ও বিকালে ঢাকার সড়কে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এছাড়া এ ধরনের বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে দুই বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয় আদালত।