নাটোরে নারদ নদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু

নাটোর জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারদ নদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসানের নেতৃত্বে নাটোর প্রধান ডাকঘরের পেছন থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।

অবৈধ দখল ও দূষণে এক সময়ের খরস্রোতা নারদ নদের স্বাভাবিক প্রবাহ ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। ওই সময় জেলা প্রশাসন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারের পুনর্বাসনেও পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পুনরায় আজ থেকে নারদ নদের দু’পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হলো।

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে পূর্বদিক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ৩৮টি পাকা ও সেমি পাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে নদীর অন্তত ৬০ শতাংশ পাড় অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে বলে জানান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসান।

উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার আগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্যে গত এক সপ্তাহ ধরে শহরে মাইকিং করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা পুলিশ আজকের উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করে। উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

নদী বাঁচাও আন্দোলন নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নদীর সীমানা চিহ্নিত করে সীমানা পিলার বসাতে হবে এবং ভবিষ্যতে নদীকে দখলমুক্ত রাখতে নদী ভিত্তিক জলজ প্রাণীর অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং জলজ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। সকল কারখানায় নিয়মিত ইটিপি ব্যবহার এবং টয়লেট ও ড্রেনের বর্জ্য নদীতে না ফেলার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রমে বসতি হারানো হৃতদরিদ্র পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জেলা প্রশাসন। উচ্ছেদ শেষে শহরের মধ্যে নদের দু’পাড়ে ওয়াকওয়েসহ সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নদী রক্ষা কমিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।