ফ্যাশনে দেশীয় মোটিফ নিয়ে কিউরিয়াসে প্রদর্শনী

কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান এবং উপকরণের অলঙ্কৃত সুরিয়েরিজম নিয়ে কিউরিয়াসে শুরু হয়েছে ‘উইন্টার এক্সিভিশন’। গেলো ৩০ নভেম্বর রাজধানীর বনানীতে তাদের ফ্যাগশিপ আউটলেটে শুরু হয় এই প্রদর্শনী। 

কিউ গ্যালারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে নজরকাড়া আয়োজন

ভিন্ন ধরনের এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ডেকো লিগ্যাসির চেয়ারম্যান এম সাহাদাত হোসেন, পরিচালক মৌ হোসেন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ হোসেন। মিট দ্য প্রেস পর্বটি সঞ্চালনা করেন এই প্রদর্শনীর কিউরেটর, ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা।

কিউ গ্যালারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে নজরকাড়া আয়োজন। এক পাশে পোশাক আর অন্য পাশে নারীদের প্রিয় গহনা। তবে সবার আগে চোখ আটকে যাবে ঝকঝকে টায়েলসে পড়ে থাকা শুকনো পাতার দিকে। 

শীতের আমেজটা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে কিউরিয়াসে উইন্টার এক্সিভিশনে

এ প্রসঙ্গে কিউরিয়াসের ডিজাইনার কনসালট্যান্ট চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, এখন শীতকাল। আমরা তাই সব আয়োজনের ভেতর শীতের আমেজটা ধরে রাখতে চেয়েছি। শহুরে জীবনে এমনটা ধরা না দিলেও গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিই সব জানান দেয়।’ 

এক্সিভিশনের শুরুতেই শীত পোশাকের আয়োজন। দেশীয় ধাঁচে তৈরি হয়েছে প্রতিটি পোশাক। এরপরেই একটি কর্নারে রাখা হয়েছে তুলা, লেপ ও ধুনকো। এটি দেখিয়ে চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, ‘আমরা এখন কোরিয়ান কম্বল গায়ে জড়িয়ে আরামে একটা ঘুম দিই। এটা সময়ের চাহিদা। লেপের জায়গা বদলে নিয়েছে কম্বল। এমন ছোটখাটো অনেক বিষয় উপস্থাপন হয়েছে প্রদর্শনীতে।’  

কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান, নীলাভ ছন্দ, নান্দনিক জটিলতা ও আলোছায়া-জাদুমায়া শিরোনামে গহনার প্রচলিত ও অপ্রচলিত উপকরণের সমন্বয়ের রূপবৈচিত্র্য

ঋতুবৈচিত্র্যে বাংলাদেশ নিজস্বতায় আজও অন্যতম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের শীতের আবহাওয়া, ঐতিহ্যগতভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের লহরী কাঁথা, কুমিল­ার খদ্দর শাল, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাদি সুতার বুরগী, সিলেটের খেশ এবং রাজশাহীর ভেড়ার পশমের কম্বল আজ ইতিহাস। এরই ধারাবাহিকাতায় শীত প্রদর্শনীতে ২০২১-এর আয়োজনটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী।

যার মধ্যে আছে কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান, নীলাভ ছন্দ, নান্দনিক জটিলতা ও আলোছায়া-জাদুমায়া শিরোনামে সংযোজিত হয়েছে গহনার প্রচলিত ও অপ্রচলিত উপকরণের সমন্বয়ের রূপবৈচিত্র্য।

গহনার কালেকশনগুলো হলো অলক্ষে পড়ে থাকা টুকরো বাতাবাস্তবতা আর স্বপ্নের সম্মিলন

এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জয়বায়ু পরিবর্তন আর এই পরিপেক্ষিতে পোশাক শিল্প আর ফ্যাশন দুনিয়ার দায়িত্বশীলতা। যে হারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে ৫০ বছর পর শীতকাল বলে আর কিছু থাকবে কিনা, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। 

চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, যেগুলোকে আপনারা গহনা রূপে দেখছেন, এর উপকরণগুলোকে আমরা বীজ, মেটাল, কাপড়, কাঠরূপে পরে থাকতে দেখি। কিন্তু কখনও সেগুলোকে গহনা হিসেবে কল্পনা করি না। আমাদের এই গহনার কালেকশন তাই অলক্ষে পড়ে থাকা টুকরো বাতাবাস্তবতা আর স্বপ্নের সম্মিলন। পুরো প্রদর্শনীকে ভাগ করা হয়েছে দুইভাবে। কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান এবং উপকরণের অলঙ্কৃত সুরিয়েলিজম।

নকশিকাঁথা বাঙালির মমতা জড়ানো কারুশৈলীর চিরন্তন অনুভব

সময়ের অতীত থেকে গৌরবময় সৃজন ঐতিহ্য, আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে সব সময়ই সমৃদ্ধ করে এসেছে। নকশিকাঁথা বাঙালির মমতা জড়ানো কারুশৈলীর চিরন্তন অনুভব। কিউরিয়াসের ডিজাইন স্টুডিও অভিজ্ঞতা, নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার অনুভব থেকে প্রদর্শনীর গহনার ভাবরূপ সৃজনে প্রয়াসী হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।