সভ্যতার আধুনিকায়নের সময়টাতে এসে যদি তাকাতে হয় নিজেদের দিকে, দেখা যাবে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। ব্যাপারটি অনুমেয়। বেঁচে থাকার ইঁদুর দৌঁড়ে নিজে ঠিক থাকলে তবেই দুনিয়া ঠিক। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিজের টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে আছে বৃহৎ এক জনগোষ্ঠী। যাদের 'বেকার' বলে সম্বোধন করা হয়।
অনেকে চেষ্টা করছেন বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়তা করতে। কেউ নিজ উদ্যোগে, কেউ সম্মিলিতভাবে। অনুরূপ একটি প্ল্যাটফর্মের নাম 'সেবা ঘর'। ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় 'ওয়াহিদুজ্জামান' নামক সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশির হাত ধরে। তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবক। কাজ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে। দেখেছেন অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবী আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। মূলত তাদের জন্য কিছু করার প্রয়াসে সেবা ঘরের ভাবনা মাথায় আনেন। পাশে পেয়ে যান কয়েকজনকে। ২০১৮ সালের ইদ-উল-আযহায় সেবা ঘর প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবীর পরিবারে কুরবানির মাংস বিতরণ করে।
স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি সেবা ঘর থেকে কাজ খুঁজে দেওয়া হচ্ছে অন্যান্যদের। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কারিগরি দক্ষতার উপর ভিত্তি করে সেবা ঘর চেষ্টা করে সর্বোচ্চ চাকরিটুকু পাইয়ে দিতে। কোনো প্রতিষ্ঠান চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিলে সেবা ঘর প্রার্থীদের সাথে সংযোগ করিয়ে দেয়। নেই কোনো আর্থিক লেনদেন কিংবা সুপারিশ। চার বছরে প্রায় ২,৫০০ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হয়েছে সেবা ঘরের মাধ্যমে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও সেবা ঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সফলভাবে।
সততা, নীতি, আদর্শ এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে এগিয়ে চলেছে সেবা ঘর। 'বেকারমুক্ত স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম চাই' প্রতিপাদ্যটি পরিণত হয়েছে 'বেকারমুক্ত যুব সমাজ চাই'-তে। কেবল চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে তরুণদের আগ্রহী করে তুলতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে ভিন্নধর্মী সংগঠনটি। শাহনাজ পারভীন টুকটুক, ফারজানা লাকিরা নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা। রি-সেলার হিসেবে সেবা ঘর থেকেই যাত্রা শুরু এক সময় মানসিকভাবে প্রচন্ড বিপর্যস্ত টুকটুকের। এখন বাকিদের জন্য নিরলস শ্রম দিচ্ছেন তিনি।
রেদওয়ান আনসারি, জুয়েল আহমেদ, ইমামুল ইসলাম, সোহেল আহমেদ; সেবা ঘরের অন্যতম প্রাণশক্তি বলা চলে এদের। যারা প্রতিনিয়ত ছুটছেন একটি ভালো চাকরির উৎসের পিছনে। ডিসেম্বর থেকে দেশের সকল জেলায় সংগঠনটি তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ দেবে, যাদের কাজ হবে সঠিক কর্মক্ষেত্রের সন্ধান ও সমন্বয় সাধন। ফেসবুকে ৬৫ হাজার সদস্যের পরিবার সেবা ঘর, প্রতিদিনই চাকরির জন্য অসংখ্য পোস্ট আসে গ্রুপে। সব মিলিয়ে লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। একটু কঠিনও। তবে, অসম্ভব নয়।