খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেন মঞ্জু 

কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে এমন গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে হঠাৎ করেই খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের কাছে দুর্দিনের কাণ্ডারি বলে খ্যাত মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি দুজনের কেউই নতুন কমিটিতে স্থান পাননি।

এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাবেক সংসদ সদস্য ও মনিরুজ্জামান মনি কেসিসির সাবেক মেয়র ছিলেন। কিন্তু জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান রয়েছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির ১৬ পৃষ্ঠার পর মহানগর ও জেলা বিএনপির মূল নেতৃত্বে। এদিকে, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর খুলনা বিএনপিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর একক নেতৃত্ব হাতছাড়া হয়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক, তরিকুল ইসলাম জহিরকে ১ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মো. শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।

অপরদিকে,আমির এজাজ খানকে আহ্বায়ক, আবু হোসেন বাবুকে ১ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মনিরুল হাসান বাপ্পিকে সদস্যসচিব করে খুলনা জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে শফিকুল আলম মনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আমির এজাজ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়লেও এখনো তার কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ রয়েছে। নতুন আহ্বায়ক কমিটি সম্পর্কে জানতে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এছাড়া মঞ্জু-মনির ঘনিষ্ঠ বিএনপির একাধিক নেতাকে ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন, দল ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে দায়িত্ব দেবেন, আমি সেই দায়িত্বই পালন করব। আমাকে আহ্বায়কের পদ না দিলেও তাতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। তবে, এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ঐক্যবদ্ধভাবে দল ও গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো। এ জন্য আমরা চাই খুলনা বিএনপিকে আরো ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করতে।

খুলনা জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক আমির এজাজ খান বলেন, কমিটির বিষয়টি তিনি অবহিত হয়েছেন। দল যে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেটি তিনি যথাসাধ্য পালনের চেষ্টা করবেন বলে জানান। এদিকে, মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বাদ দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।

নগরীর শেখপাড়ার রবিউল ইসলাম নামে বিএনপির একজন তৃণমূল কর্মী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এক ডাকে খুলনায় বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী ছুটে আসেন। গত ২২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করতে গিয়ে তিনি পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর তার নেতৃত্বে পুলিশি হামলা-মামলা উপেক্ষা করে খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশ সফল হয়েছে। মঞ্জুকে মহানগর কমিটি থেকে বাদ দিয়ে আর কী কোনো আন্দোলন সফল হবে? তবে, গত মহানগর কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হক শাওন বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা আসায় খুলনা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

গত সেপ্টেম্বরে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তজার নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রতিপক্ষ গ্রুপ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে দেখা করেন। এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার।