বিচিত্র এই দেশ, সেলুকাস!

পনেরো বছর বা তারও আগে অবসর নিয়ে যাঁরা শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে সব টাকা তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের আবার পেনশনে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। যাঁরা পেনশনে ফিরে এলেন তাঁরা যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিন পেনশন পাবেন এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের বিধবা স্ত্রী অথবা বিপত্নীক স্বামীরাও আজীবন পেনশন পাবেন। এই সুবিধা ১ জুলাই ২০১৭ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা ইতিমধ্যে এমনকি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর টাকা তোলার আগে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং যথারীতি অবসর গ্রহণের পর ১৫ বছর পার করেছেন, তাঁদের বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামীরা কিছুই পাচ্ছেন না। অথচ আর্থিক সুরক্ষার বিবেচনায় তাঁদেরই পেনশনের দাবি সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়ার কথা। এটা অতি সামপ্রতিক কালের কথা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮-১০-২০১৮ তারিখের প্রজ্ঞাপনের বিষয় এটা। ইতিপূর্বে সরকার ৩-৮-২০১৭ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী মৃত কর্মচারীদের পরিবারকে মৃত পেনশনারদের পরিবারের মতো ফেব্রুয়ারি ২০১৬ থেকে মাসিক চিকিত্সাভাতা ও বাত্সরিক উত্সবভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ঐ প্রজ্ঞাপনে উল্লে­খ না থাকায় এর মধ্যে ঘোষিত বাংলা নববর্ষভাতা দেওয়া হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে,  ১৪-১০-২০১৫ তারিখে চাকরিজীবী এবং পেনশনারদের জন্য বাংলা নববর্ষভাতার প্রচলন করা হলেও পেনশন সমর্পণকারীদের তা দেওয়া হবে না বলা হলেও দাবির মুখে সরকার ১৪২৪ বঙ্গাব্দ থেকে তাঁদের জন্যও এই ভাতা মঞ্জুর করে। কিন্তু ঐ সময় পেনশন সমর্পণকারীদের পরিবার কোনো ভাতা না পাওয়ায় এতদসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে তাঁদের কথা বলা হয়নি। জুলাই ২০১৭ থেকে পেনশনারদের জন্য বার্ষিক ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট মঞ্জুর করা হলে পেনশন সমর্পণকারীরাও তাঁদের উত্সবভাতায় ৫% বেশি দাবি করেন। কেননা তাঁদের পেনশনের প্রাপ্যতায় বলা হয়েছিল যে তাঁরা যদি পেনশন সমর্পণ না করতেন তা হলে যে হারে পেনশন পেতেন সেই হারে উত্সবভাতা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় তা বেমালুম ভুলে গিয়ে বলে দিল তাঁরা ইনক্রিমেন্টের ৫% পাবেন না। লেখালেখির ফলে অর্থ মন্ত্রণালয় আদেশ প্রত্যাহার করে। ফলে পেনশন সমর্পণকারীরাও উত্সবভাতায় এখন প্রতি বছর ৫% বর্ধিত হারে পাচ্ছেন। পাচ্ছেন না তাঁদের বিধবা স্ত্রী/ বিপত্নীক স্বামীরা। কারণ তাদের কথা উল্লে­খ নাই। জীবিতরা উত্সবভাতা পাবেন, ৫% হারে ইনক্রিমেন্টও পাবেন। তাঁদেরই উত্তরাধিকারী হিসাবে বিধবারা ভাতা পাবেন, কিন্তু ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। সত্যই, বিচিত্র এ দেশ, সেলুকাস!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক