মো. কামাল হোসেন, হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি কলেজসহ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে ওই সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ডেকোরেশনের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার স্থাপন করে অথবা খালি পায়ে প্রভাতফেরি করে পার্শ্ববর্তী কোনো শহিদ মিনারে গিয়ে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। অথচ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার গড়ে উঠেনি। সরকারি কিংবা স্থানীয়ভাবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণেও তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যলয়, ৩টি কলেজ, ৯টি মাদ্রাসা এবং ৬৫টি কিন্ডারগার্টেনসহ মোট ১৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শহিদ মিনার রয়েছে ২টি কলেজ, ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যলয়সহ মোট ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উল্লেখযোগ্যগুলোর মধ্যে উপজেলা সদরের রেহানা মজিদ মহিলা কলেজে, হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাইরের আছাদপুর হাজি সিরা-উদ-দৌল্লা ফারুকী উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোমনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়সহ মোট ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম বলেন, সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। তবে স্ব-স্ব বিদ্যালয়কে স্থানীয়ভাবে শহিদ মিনার নির্মাণে ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি।
হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুত্ফর রহমান বলেন, উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আমাদের একেবারে নিকটবর্তী হওয়ায় বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা সেখানেই অংশ নিয়ে থাকি।
আছাদপুর সিরাজ-উদ-দৌল্লা ফারুকী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। ডেকোরেশনের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে তাতেই আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করি। সরকারি সকল প্রোগ্রাম আমরা বিদ্যালয়ে পালন করে থাকি।
হোমনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। তবে সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন বলেন, সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। সরকারিভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজ নিজ উদ্যোগে তা নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী বলেন, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহিদ মিনার নেই এটি সত্যি। এতে সরকারের বরাদ্দ নেই। তবে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এডিবির বরাদ্দ থেকে প্রতি বছর একটি দুটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।