সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের একটি রুটিন থাকে। এবং সেই রুটিনে সবাই নিজেকে অভ্যস্ত করে নেন। সেটি আদৌ ভুল না সঠিক—এটি না জানলেও স্রেফ জীবনযাপনের সুবিধার জন্য মানিয়ে নিতে আগ্রহী হোন।
নাগরিক জীবনে দিনভর কাজ করা, দাঁড়িয়ে ফোন ব্যবহার কিংবা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে স্বাস্থ্যহানি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভগ্ন শরীর মনেও প্রভাব ফেলে। মানসিকভাবেও যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েন কেউ কেউ। জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। কিছু অভ্যাসকে বিদায় দিয়ে নতুন কিছু অভ্যাসে নিজেকে অভ্যস্ত করে নিতে হবে। তাহলে জেনে নিন কোন কোন অভ্যাসে নিজেকে মানিয়ে নিলে মন ও শরীর সুস্থ থাকবে।
- এতদিন তো অনেক ফোন ফোনে সময় পার করলেন। ফেসবুকে বুঁদ হয়ে থাকলেন। এবার না হয় একটু বই পড়লেন। বইকে সব সময়ের সঙ্গী করে নিন। তাই ফোন ব্যবহার খানিকটা কম করে বই পড়তে পারেন।
- সূর্যের আলোয় থাকা অভ্যাস করুন। বেশিক্ষণ ঘরের মধ্যে বসে থাকা শরীর এবং মন দুইয়ের জন্যই ভালো না। সারাদিনে সূর্যের আলোতে সবার একটু সময় হলেও থাকা উচিত।
- কথা কম বলে বেশি শোনা অভ্যাস করুন। অপ্রয়োজনে কথা কম বললেও চলবে। শুনতে পারলেই আপনার অনেক বেশি লাভ। হাসিখুশি থাকবেন। অযথা চিন্তায় নিজেকে আটকে ফেলবেন না।
- পানি বেশি পান করবেন ক্যাফেইনের তুলনায়। কারণ পানি আপনার দেহে ক্ষতি করবে না তবে ক্যাফেইন নানাভাবে ক্ষতি করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম ঘুমের অভাব হয়, কখনো কখনো লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
- এক জায়গায় কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর অভ্যাস করুন। সবসময় দৌড়াবেন না। কিছুটা সময় বিশ্রাম নিন।
- সবকিছুর সঙ্গে নিজের ভালোবাসার দরকার আছে। আপনি নিজেকে ভালোবাসতে পারলেই জীবনের জটিলতাগুলোর অর্ধেক সমস্যার সমাধান। আর সেলফ জাজমেন্ট করা বন্ধ করুন। এটি আপনাকে মানসিক ভাবে কষ্ট দিতে পারে।
- যা ঘটছে, যেভাবে ঘটছে সেটিকে সেভাবেই গ্রহণ করুন। সবকিছু পাওয়ার নয় এবং রিগ্রেট না রাখাই ভালো, এতে আপনারই সুবিধা, জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন।
- সবসময় তাজা ও টাটকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাইরের রেস্টুরেন্ট না খেয়ে বাড়ির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। প্যাকেটজাত ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলবেন।
- যদি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তাহলে তাকে যেতে দিন। এমন কিছু যদি আপনার থেকে চলে যেতে চায় তবে আটকে রাখার একেবারেই দরকার নেই। এতে সমস্যা কমবে বই বাড়বে না।
- উত্তর দিতে শিখুন, কৈফিয়ত নয়। প্রয়োজন যতটুকু ঠিক ততটুকু বলতে চেষ্টা করুন। তাহলে নিজে ভালো থাকবেন। আর ভুলে গেলে চলবে না জীবনে কর্মব্যস্ততা ও জটিলতা থাকবেই, তাই নিজেকে ভালো রাখার পথ নিজেকেই খুঁজতে হবে।